ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০২৩ , ৫:২১ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহ ব্যুরো, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহে মুক্তাগাছায় পিপাসা লাগায় বিনা অনুমতিতে প্রতিবেশীর রান্না ঘরে গিয়ে পানি পান করা নিয়ে তর্কের পর মাথায় আঘাত করে হত্যার ঘটনায় মামলার রায়ে শামসুদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুদিপ্তা সরকার এই মামলার আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত শামসুদ্দিন জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার তারাঢি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত জয়নুদ্দিনের ছেলে। ময়মনসিংহ প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি সঞ্জিব সরকার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথির বরাত দিয়ে আদালতের পিপি সঞ্জিব সরকার বলেন, নিহত রফিজ উদ্দিন জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার তারাঢি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আসামি শামসুদ্দিন ও রফিজ উদ্দিন তাদের প্রতিবেশী।
আদালতের পিপি সঞ্জিব সরকার আরও বলেন, ২০১৫ সালের ১০ মে ঘটনার দিন রফিজ উদ্দিন আসামি শামসুদ্দিনের বাড়ির সামনে বসে বাঁশের চাটাই বুনন করছিলেন। এসময় রফিজ উদ্দিনের স্ত্রী তাকে গুড়ের খুরমা খেতে দেন। খুরমা খেয়ে রফিজ উদ্দিনের পানি পিপাসা হলে শামসুদ্দিনের রান্নাঘর থেকে এক গ্লাস পানি পান করেন তিনি। বিনা অনুমতিতে কেন তার রান্নাঘরে ঢুকে পানি পান করলেন এ নিয়ে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন লোহার শাবল দিয়ে রফিজ উদ্দিনের মাথায় বেশ কয়েকটি আঘাত করেন। এতে রফিজ উদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে শামসুদ্দিন শাবল নিয়ে পালাতে চাইলে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ফকিরগঞ্জ বাজারে গেলে মোস্তফা নামে একজন তাকে আটক করেন। পরে শামসুদ্দিন তাকেও শাবল দিয়ে আঘাত করেন। এসময় স্থানীয়রা শামসুদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ওই দিন শামসুদ্দিনকে আসামি করে মুক্তাগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে শামসুদ্দিন কারাগারেই ছিলেন। মামলার ৭ বছর পর আসামির উপস্থিতিতে আদালত শামসুদ্দিনকে যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।