বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিই আমাদের জাতিস্বত্ত্বার ভিত্তি: মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত : মে ২৮, ২০২২ , ১০:৫০ অপরাহ্ণ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেছেন সৃজনশীলতা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কোন কোন দেশ তাদের জন্য সৃজনশীল কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করছে। আমাদের জাতিস্বত্ত্বার ভিত্তিও বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। তাই আমাদের নতুন প্রজন্ম ও তাদের অভিভাবকদেরকে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন ডিজিটাল যুগের পৃথিবীতে ইন্টারনেট হচ্ছে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠ ভান্ডার। পাঠ্য বইয়ের জ্ঞানের পরিধি এখন আর পৃথিবীজুড়ে বিদ্যমান নেই। লেখাপড়ার বাইরে ছেলে মেয়েদের মধ্যে সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে অভিভাবকসহ সংস্কৃতি সংগঠন সমূহের ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মন্ত্রী শনিবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম আয়োজিত আন্তজেলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জ্ঞান ভিত্তিক ডিজিটাল সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠায় শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে যথাযথ বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরের প্রবক্তা জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি পর্ব তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর ৮০টি দেশে আমরা সফটওয়্যার রপ্তানি করছি। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার উদ্ভাবক জনাব মোস্তাফা জব্বার সৃজনশীল থাইল্যান্ড কর্মসুচির দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বাঙালির পরিচয় সুদৃঢ় করতে যে পরিচয়টা পেয়েছি সেটা হলো ভাষা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, জারি-সারী, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালী, বাউল গান, পালা গান, পুঁথিপাঠ জুড়ে আছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে। বাঙালির এই প্রাচীন সম্পদকে রক্ষায় এগুলো চর্চা করতে হবে । বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে এই কাজটি করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের নির্বাহী সভাপতি সাবেক সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমিতির সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, বৃহ্ত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান শেলী, যুগ্ন মহাসচিব আবদুল লতিফ রেজা, ফেরামের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন খান হীলু, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মু. আ: লতিফ এবং ফোরামের সঙ্গীত ও শিল্পকলা সম্পাদক মো: শহীদুল আলম লস্কর প্রমূখ বক্তৃতা করেন। বক্তারা সৃজনশীল জাতি বিনির্মাণে সংস্কৃতি চর্চাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
পরে মন্ত্রী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু কিশোরদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।