এথেন্স বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : মে ৩০, ২০২২ , ৭:১৯ অপরাহ্ণ

এথেন্স, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ্রগ্রহণে গ্রিসের এথেন্সসহ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে ১৪২৯ বাংলা বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশি খাবার উৎসবের সাথে বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষ্যে দূতাবাস প্রাঙ্গণ বৈশাখী আল্পনা, নববর্ষের সাজসজ্জসহ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত করা হয়। গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মদ বর্ষবরণ মেলার উদ্বোধন করেন। বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে লোকজ ও বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুদের আগমনে কলকাকলিতে মুখরিত হয় দূতাবাস এবং সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল মনোরম পরিবেশের। মেলায় আগমনকারীরা বিভিন্ন স্টল থেকে বাংলাদেশি পণ্য ক্রয় করেন এবং বাংলাদেশি খাবারের স্বাদও আস্বাদন করেন। বৈশাখী আবহে স্টলসহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে এক টুকরো বাংলাদেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের স্টলসমূহে বাংলাদেশি খাবার, তৈজসপত্র, হস্তশিল্প, শাড়ী, মনোহরী দ্রব্য, অলংকার সামগ্রী এবং আল্পনা সহকারে বাংলাদেশকে ফুটিয়ে তোলেন। পাশাপাশি গ্রিক ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ও বঙ্গবন্ধুর মহতী জীবন ও কর্মের ওপর রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের প্রদর্শনীর জন্য মেলায় দূতাবাস স্টল স্থাপন করা হয়।
‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটি সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেন সকলে। মনোজ্ঞ বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সদস্যবৃন্দ, গ্রিসের বাংলাদেশ দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ এবং শিশু-কিশোররা বৈশাখী ও লোকজ সংগীত, কবিতা, নৃত্য ইত্যাদি পরিবেশন করেন। এর আগে, রাষ্ট্রদূত তাঁর স্বাগত বক্তব্যে দূতাবাসের আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে যোগ দেয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি সম্প্রতি গ্রিক সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তির আওতায় সংস্কৃতির মেলবন্ধনের মাধ্যমে দু’ দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো নিবিড় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দূতাবাস আয়োজিত এই বর্ষবরণ উৎসব গ্রিস প্রবাসীদের মধ্যে বিপুল আনন্দ-উদ্দীপনার সঞ্চার করে এবং প্রবাসে এরকম সর্বজনীন বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌহার্দ আর সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় করবে বলে অংশগ্রহণকারীরা মত প্রকাশ করেন।