অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয় শুন্যপদ দেখিয়ে নিয়োগের ষড়যন্ত্র

প্রকাশিত : আগস্ট ২, ২০২২ , ৮:১৩ অপরাহ্ণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরঅনুপনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এ সরকারী প্রজ্ঞাপন অস্বীকার করে নিয়োগ বাণিজ্য করার লক্ষে শুন্যপদ দেখিয়ে নিয়োগের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হয়েছে। ‘দপ্তরী’ পদটিকে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে ‘অফিস সহায়ক’ পদবী দিলেও সেই পদকে শূন্য দেখিয়ে প্রায় ২যুগ আগে ‘দপ্তরী’ পদে নিয়োগ হওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের মোঃ তোফিকুল ইসলামকে বাদ দিয়ে উক্ত পদে একজন নিয়োগ দেয়ার লক্ষে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রথমে ‘দপ্তরী’ এবং সরকারী প্রজ্ঞাপন জারীর পর ‘অফিস সহায়ক’ পদে দায়িত্ব পালন করার পরও এমন নির্যাতনের শিকার হওয়ায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে সুষ্ঠু সমাধানের আশায় ঘুরছেন ভুক্তভোগী ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এর ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকুরীরত মোঃ তোফিকুল ইসলাম। এদিকে, এই সমস্যা সমাধান এবং নির্যাতন থেকে রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের দ্বারস্থ হলেও প্রতিকার না করে উল্টো নানা ধরণের অসহযোগিতামূলক কথা বলেন জেলা শিক্ষা অফিসার বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরঅনুপনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এ ১৯৯৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘দপ্তরী’ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন মোঃ তোফিকুল ইসলাম এবং প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন ১৯৯৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। যোগদানের পর সরকারী বিধি মোতাবেক ৫৪৬৯৮৪ ইন-ডেস্ক নম্বরে বেতন চালু হয় এবং অদ্যাবধি চাকুরীরত আছেন। বর্তমানে রূপান্তরিত পদ ‘অফিস সহায়ক’ পদে কর্মরত আছেন তিনি। ‘বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ১৯৯৫’ এর বিধি মোতাবেক ‘দপ্তরী’ পদে নিয়োগ দেয়া হয় মোঃ তোফিকুল ইসলামকে। পরে ‘বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো’ ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ ‘দপ্তরী’ পদটি রূপান্তরিত করে ‘অফিস সহায়ক’ পদে নামকরণ করা হয় সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
‘বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো’ ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ৯.৩ অনুচ্ছেদে শূন্য পদের বিপরীতে পদ সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে ‘অফিস সহায়ক’ পদ শূন্য না থাকলেও স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্য করার ষড়যন্ত্র করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশে গত ২৩ জুন/২২ তারিখে এক সভার রেজ্যুলেশন করে একটি স্থানীয় ও একটি জাতীয় পত্রিকায় ‘অফিস সহায়ক’ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ০৭ জুলাই/২২ তারিখে। যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। এই অবৈধ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বর্তমান ‘অফিস সহায়ক’ মোঃ তোফিকুল ইসলামকে ‘নিরাপত্তা-কর্মী’ পদে সমন্বয় পদ দেখিয়ে একটি রেজ্যুলেশনও করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চরঅনুপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস আব্দুল বাদী (বাদশা)- তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য হিসেবে থাকা অবস্থায় মোঃ তোফিকুল ইসলামকে ‘দপ্তরী’ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন কমিটি। বর্তমানে তিনিই পদটি নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন এবং শূন্য পদ দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করতে উঠেপড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯৯৩ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এস.এস.সি পাশ করা মোঃ তোফিকুল ইসলাম (৪৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরঅনুপনগর ইউনিয়নের অনুপনগর গ্রামের মৃত কসিমুদ্দিনের ছেলে। এব্যাপারে ভুক্তভোগী ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এর ‘অফিস সহায়ক’ মোঃ তোফিকুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ধরে ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এ ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ‘দপ্তরী’ পদে প্রায় ২২ বছর চাকুরী করার পর সরকারী প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বর্তমান পদ ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকুরী করে আসছি। হঠাৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস আব্দুল বাদী (বাদশা) একটি সভা করে আমাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে প্রতিষ্ঠানের ‘নিরাপত্তা-কর্মী’ পদে সমন্বয় দেখিয়ে রেজ্যুলেশন করেন এবং আমার পদে শুন্যপদ দেখিয়ে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। যা সরকারী প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এবং সম্পূর্ণ অবৈধ। অজ্ঞাত কারনে বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অজ্ঞাত সুবিধা ভোগের কারণে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতা করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন কমিটি ও প্রধান শিক্ষক। অত্র প্রতিষ্ঠানে আমার দীর্ঘদিনের চাকুরীরত অবস্থায় অফিসের দায়িত্ব পালন করার পর এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা ভুক্তভোগী অফিস সহায়ক মোঃ তোফিকুল ইসলামের।
এব্যাপারে ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এর প্রধান শিক্ষক মোঃ তরিকুল ইসলাম এর সাথে মোবাইলে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মোবাইল রিসিভ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক বাড়ি চলে গেছেন, উনাকে বিষয়টি জানার কথা বলেন অফিস সহকারী। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বর ও প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইলে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এব্যাপারে ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এর সভাপতি ও চরঅনুপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস আব্দুল বাদী (বাদশা) বলেন, তোফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকেই ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এ কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে। ‘অফিস সহায়ক’ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। সরকারী প্রজ্ঞাপন মোতাবেক তোফিকুল ইসলামের বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে বিস্তারিত জানতে বলা হয়েছে। সরকারী প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে কিছু করা সম্ভব নয়। ‘অফিস সহায়ক’ পদটি শূন্য করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া ভুল হয়ে থাকলে, সেটা স্থগিত এবং সমাধান করা হবে। কোনভাবেই অবৈধ বা অনিয়ম করা হবে না। তিনি বিষয়টি বিস্তারিত জানতে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার জন্যও বলেন। এমন বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বিষয়ে জেলার এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, সরকারী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘দপ্তরী’ পদটি যেহেতু ‘অফিস সহায়ক’ পদে রূপান্তর করা হয়েছে, সেহেতু এটা অস্বীকার করা বা অবৈধভাবে কোন কিছু করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। ‘অফিস সহায়ক’ পদে যেহেতু বর্তমানে একজন চাকুরী করছেন এবং এমপিওভুক্ত। সেখানে কোনভাবেই পদ শূন্য দেখানো বা সমন্বয়ের সুযোগ নেই। যদি কোন প্রতিষ্ঠানে এমনটা করা হয়, তবে সেটা অন্যায়, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারের নীতিমালা বহির্ভূত। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, নতুন নীতিমালা মোতাবেক ‘অফিস সহায়ক’ পদে সমন্বয় করা যাবে না। সৃষ্ট পদে নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে। ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এর পরিচালনা পর্ষদ সঠিকভাবেই নিয়োগ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ‘অনুপনগর উচ্চ বিদ্যালয়’ এর শূন্য ও সৃষ্ট পদে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, একজন নৈশ-প্রহরী, একজন পরিচ্ছনতাকর্মী, একজন আয়া ও একজন অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।