শীতের শুরুতেই ঠাকুরগাঁওয়ে জমে উঠেছে পিঠার ব্যবসা

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৮, ২০২২ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঠাকুরগাঁওয়ে শীত পড়তে না পড়তেই জমে উঠেছে ভাপা পিঠার ব্যবসা। তাই তো ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের মৌসুমি এ ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে শুধু বউ-ঝিয়েরা নয়, পুরুরাও অভিনব পন্থায় ভাপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছেন ফুটপাতে বসে। একটু কষ্টসাধ্য এ শীতকালীন খাবার ভাপা-পিঠা আর আগের মতো বাড়ীতে তৈরির তেমন উৎসাহ দেখা যায় না। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন হাটবাজারে ও সড়কের ধারে দেখা মিলে ফুটপাতে পুরুষদের ভাপা পিঠা বিক্রির দৃশ্য। ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য নারী-পুরুষ, শিশু-বয়স্ক সব বয়সের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এসব ফুটপাতের দোকানে। এলাকা-ভেদে প্রতি পিস ভাপা পিঠা ১০-১৫ টাকা করে বিক্রি করছে তারা। তবে এই দোকান গুলোতে শুধু ভাপা পিঠাই পাওয়া যায়, তা নয়। এখানে চিতুয়া পিঠা, তেল পিঠা, গুরগুড়িয়া পিঠা, সিদ্ধ ডিম এসবও মিলে। নিশ্চিন্তপুর এলাকার হীরা বলেন, ভাপা পিঠা আমাদের দেশের গ্রামীণ বাংলার দেশীয় সংস্কৃতি লালন করছে। অন্যদিকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ভাপা পিঠা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, চালের গুঁড়ার সঙ্গে গুড় এবং নারিকেল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভাপা পিঠা। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে পিঠা তৈরি ও বিক্রির কাজ।
আরেক ব্যবসায়ী আরমান জানান, দৈনিক তিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করতে পারেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে সাত-আটশ’ টাকা আয় হয়। দীর্ঘ দশ বছর ধরে এ ব্যবসা করছেন তিনি। ভাপা-পিঠা খেতে আসা শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার আব্দুল আউয়াল জানান, গ্রামাঞ্চলে ধান কাটা-মাড়া শুরু হয়েছে, ব্যবসায়ীরা নতুন চাল সংগ্রহ করে তা গুড়ো করে আটা বানিয়ে পিঠা তৈরি করছে। নতুন চালের ভাপা-পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। আগে বাড়ীর গৃহবধূরা কষ্ট করে হলেও ভাপা-পিঠা বানিয়ে খেতো, প্রতিবেশীদের ডেকে খাওয়াতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন আর এসব হয় না। শহরের অলিতে-গলিতে এখন ভাপা-পিঠা পাওয়া যায়, তাই আর কেউ কষ্ট করে এসব করতে চায় না।