মনের মেঘেও যত্ন পেলে সুখের বৃষ্টি দেয়

প্রকাশিত : জুন ২৪, ২০২৪ , ১১:০২ অপরাহ্ণ

প্রতিকি চিত্র।

যারা আপনারে কাঁদায়, ভীষণ মন খারাপের কারণ হয়- তাদের ছাড়াও জীবন চলে। একবার শক্ত হয়ে দেখুন- আপনি অপাংক্তেয় কিংবা কেবল অবহেলার কেউ নন। ভালোবাসা পাওয়ার মত এবং ভালোবাসতে পারার মতন কেউ। আপনারও মূল্য আছে। আপনার আবেগেরও দাম আছে এবং আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রাধিকার আছে। কারো জন্য যতোটা নরম হবেন সে আপনাকে ততটা দুর্বল ভেবে চেপে ধরবে- সমাজের অসুস্থরা এমন কুনীতি চালু করেছে। যারা বিনয় এবং ভদ্রতাকে বোঝার সৌজন্যতাটুকুও দেখায় না তাদের সামনে পাথরের মত শক্ত হোন। এতে বুকে অন্তত কম আঘাত পাবেন। কেবল তেল-চর্বিই আপনার হার্টে রোগ বাঁধায় না বরং প্রিয়জনের অবহেলা, দু’বেলায় কথার আঘাতেও অন্তর বিকল করে।

যারা মূল্য বোঝে না তাদের জন্য এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলে একরাশ উপেক্ষা উপহার পাবেন। যে আপনার দুর্বলতাকে আঘাত করে তার স্বার্থ হাসিল করে সে প্রিয়জন হতে আপনার কূলে তরী বেড়ায়নি বরং প্রয়োজন মেটাতে এসেছে। দু’দিন গেলেই তার উদ্দেশ্য নগ্ন হবে এবং আপনাকে দুঃখের জলে ভাসাবে। কাজেই মানুষের চোখ এবং চাওয়া পড়তে শিখুন। মুখে না বলতে না পারার অক্ষমতা আচরণের উপেক্ষা দ্বারা ঘুচিয়ে দিন। প্রয়োজনে একা হয়ে কাঁদুন তাও জনসম্মুখে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে গণ-হাসির মুখরোচক গল্প হবেন না।

যে আপনাকে বোঝে সে আপনাকে সুখের দিনের চেয়ে দুঃখের দিনে বেশি বুঝবে। চাওয়া যদি কেবল ভোগের হয় তবে সে ক্ষুধা নিবৃত্ত করার খাদ্য কোন ঘাটেই নাই। চরিত্রের লাম্পট্য কথার মিষ্টত্ব দিয়ে আড়াল করা যায় না। মুখোশ উন্মোচিত হতেই একরাশ ঘৃণা ঝেঁকে আসে। যার অপেক্ষায় আপনি থাকেন, যার মৌনতায় আপনি ভাবিত হন সেখানে উপেক্ষার বিষ প্রয়োগ করা ঠিক নয়। মানুষ একা রাত জাগতে কিংবা বাঁচতে শিখে গেলে কী সাংঘাতিক গল্প হতে পারে তা সঙ্গীহীনরা জানে।

কায়দা করে ফায়দা হাসিল করতে এলে স্বার্থের ময়দায় পোকা ধরতে পারে। ঠকিয়ে কেউ কখনোই জিতেনি। ব্যথা দিয়ে কেউ ব্যথা-হীন গেছে- এমন গল্প ও ঘটনা বিরল। কারো দু’ফোঁটা চোখের জলের দাম একসাগর পানি দিয়ে মেটানো লাগতে পারে। কারো অভিশাপে, বুকভরা দীর্ঘশ্বাসে কিংবা অধিকার থেকে বঞ্চিত করে কেউ কোনকালে ভালো থেকেছে- এমন দৃষ্টান্ত আমি দেখিনি, সম্ভবত আপনিও নন। আপনি যা বিনিয়োগ করবেন প্রকৃতির লীলাখেলায় তা সুদ সমেত ফেরত আসবে। সুখ দিলে সুখ আর দুঃখ দিলে এক স্রোত শোক। সাধারণত এর ব্যত্যয় বিনিময়ের রীতিতে ঘটে না।

সঙ্গীর এবং সঙ্গের পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য দিতে হবে। বিপরীত-জনকেও বঁধু ও বন্ধুর শক্তি এবং সামর্থ্য বুঝতে হবে। দুঃখের পথ চিরকাল একরকম কিন্তু সুখ নানাভাবে আসতে পারে। জীবন উদযাপনের কায়দা জানলে মুহূর্তকেও অনন্য সাধারণ করে গড়ে তোলা যায়। ইচ্ছা জরুরি। তারচেয়ে জরুরি মানুষকে বোঝার, মনকে পড়ার ক্ষমতা অর্জন করার। কেউ কারো জন্য অনিবার্য নয় বটে তবে জীবন যখন জীবনের হয়ে যায় তখন একজন আরেকজন ছাড়া টিকতে পারে না মোটে। তখন ভালো লাগে না কোন ঘাটে। বিরহের সময় লম্বা হয়। অভিমান জমে জমে মনের আকাশেও মেঘ ঘনীভূত হয়। তখন যত্ন করে বৃষ্টি জড়াতে হয়, যাতে সুখ মেলে।

রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com

[wps_visitor_counter]