কথায় মানুষের জন্য ভালোবাসা থাকুক

প্রকাশিত : জুন ২৪, ২০২৪ , ১১:২০ অপরাহ্ণ

প্রতিকি চিত্র।

আপনাকে দু’টো কান, দু’টো চোখ এবং একটি মুখ দেওয়ার অর্থ নিশ্চয়ই আছে! আপনার মাথা কয়টা? দু’টো হাত, দু’টো পা এবং একটি হৃদয় দেওয়ার পেছনে কোন পরিকল্পনা বা বার্তা নাই সেটা বলা যৌক্তিক হবে না। বেশি বেশি শুনুন, ভালো করে দেখুন কিন্তু বলবেন ভেবেচিন্তে। আপনার কানে ভালো কথাও আসবে, খারাপ কথাও আসবে। আপনার চোখে সৌন্দর্য ধরা দেবে এবং কুৎসিত-কদাকারও দেখতে পারবেন। কিন্তু মুখ দিয়ে যা বলবেন সেটাতেই আপনার পরিচয় দেবে। কাউকে গালি দেওয়া এবং কারো প্রশংসা করা- একমুখেই সব পারেন। তবে জিহ্বার সংযত ব্যবহার আয়ত্ত না করলে কখনোই মানুষের আপনার হতে পারবেন না।

যা শুনবেন তার সব বিশ্বাসযোগ্য নয়, যা দেখবেন তাতেও সব সত্য নাও থাকতে পারে। তবে মুখে যে রায় দিবেন তার মাধ্যম্যেই কারো সারাজীবন চোখের পানি জড়াতে পারেন কিংবা সুখের সাগরে ভাসাতে পারেন। কাজেই যে কথা বারুদের মত লক্ষ্যভেদী তা যেন কারো বক্ষ-ভেদী না হয়। অশ্লীলতা-মিথ্যাচারে আপনার জিহ্বা যাতে কলুষিত না হয়। আপনার জিহ্বা মৌমাছির হুলের মত বিষধর হতে পারে আবার ফুলের সঞ্চিত মধুর মত মিষ্টিও হতে পারে। আপনি কিভাবে নিজেকে জাহির করবেন তা আপনার কথাতেই প্রকাশ পাবে। ভালো কথায় আপনার ভালোত্বের প্রচার বাড়বে। লোকে আপনায় ভালো বলুক- এই সাধনায় একটা জীবন ফুরাতে দিয়েন।

পা আপনাকে ভালোর দিকে নিতে পারে আবার খারাপের সাথে দেখা করিয়ে দিতে পারে, দু’হাত ভালো কাজ করতে পারে আবার আলস্যে কুকাজে ডুবতে পারে তবে অন্তরে যদি পবিত্র থাকে, চিন্তায় যদি সৌন্দর্য মাখে তবে সে মানুষ কোনভাবেই মন্দ মানুষের খেতাব পায় না। চিন্তার সৌন্দর্য দ্বারা মানুষের সৌন্দর্য নির্ধারিত হয়। মানুষ মানুষের হলে তখন স্বার্থপরতা, লোভ-ঘৃণা এবং অহমিকার কুৎসিত প্রকাশে মানুষ কষ্ট পায় না। আমাদের সৃষ্টা সৃষ্টির মাধ্যমেই করণীয়-বর্জনীয়ের বার্তা দিয়ে দিয়েছেন। কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কম গুরুত্বপূর্ণ নয় কিন্তু যা সবচেয়ে বেশি দরকারি তা একটি করেই দিয়েছেন এবং সেই একটাতেই দু’টোর অধিক ক্ষমতা দিয়েছেন। নিয়ন্ত্রণের এবং সম্পর্ক স্থাপনের যে ক্রিয়াকলাপ তা বোধ-বিবেকের পরিচ্ছন্নতাতেই সাধিত হবে- প্রকৃতিও সেটাই কামনা করে।

পারস্পরিক সম্পর্কের যে সেতুবন্ধন তা আত্মার পবিত্রতা এবং ভাষার মধুরতার দ্বারা নির্ধারিত হয়। যেখানে কান শ্রোতার এবং চোখ দর্শকের ভূমিকা পালন করে। জিহ্বায় উচ্চারিত প্রত্যেকটি শব্দ বিনয় ও বিবেকের বাটখারায় উৎপাদিত হওয়া আবশ্যক। চিন্তার শুদ্ধতাতেই সম্পর্কের পবিত্রতা, আচরণের সাধুতা এবং বিশ্বাস-ভরসার ভিত্তিমূল রচিত হওয়া উচিত। অধিকারের বঞ্চনা কোনমতেই পবিত্রতার নির্দেশক নয়। লাম্পট্য পশুত্বের পরিচায়ক। চরিত্রের সৌন্দর্য না থাকলে তার যত সম্পদ থাকুক তাতে কিছুই যায় আসে না। সততা ও নৈতিকতার চাদরের চেয়ে বড় কোন আশ্রয় নাই। মানুষের মধ্যে বিনয় না থাকলে পশুতে আর মানুষে ব্যবধান কোথায়?

আপনার উচ্চারিত প্রত্যেকটি কথায় কারো না কারো জন্য কল্যাণ থাকুক। প্রত্যেকটি চিন্তায় সমাজের জন্য আলো আনুক। ক’দিনের জীবন- তা নিয়ে আমাদের কত বাহাদুরি! একেবারে না থাকার সময়েও, সাময়িক অনুপস্থিতিতেও মানুষের থেকে প্রশংসা পেলে তারচেয়ে আর বড় অর্জন নাই। কেউ বলুক, ‘ওনি ভালো মানুষ’- এর জন্য একজীবন সাঙ্গ করা চলে। গালি দিয়ে, বকে কিংবা তেড়ে গিয়ে দাপট দেখানো যায় তবে সেটা ক্ষণিকের ক্ষমতা। কারো মনের মধ্যে থাকতে হলে ভালোবেসে থাকতে হয়। অক্ষমরাই কেবল গলা চড়িয়ে প্রভুত্ব কায়েম করতে চায়। যারা যোগ্য তাদের মধ্যে থাকে বিনয়। তারা না চাইলেও মানুষ তাদের প্রশংসা করে। সবকিছুই জিহ্বার নড়নচড়নে নির্ধারিত করে। তাইতো বলি, ‘ভেবে ভেবে কথাদের জন্ম হোক। কথাতেই মানুষের জন্য ভালোবাসা থাকুক, সুন্দর চিন্তাতে হোক সেটার লালন।

রাজু আহমেদ,প্রাবন্ধিক।
raju69alive@gmail.com

[wps_visitor_counter]