ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নিজেরাই ইনট্রান্সপ্যারেন্ট:স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৬, ২০২২ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: “করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সুশাসন : অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ” শিরোনামে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যখাত সংক্রান্ত যে রিপোর্ট টিআইবি (ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) করেছে তা ভীত্তিহীন, উদ্যেশ্য প্রণোদিত ও জনমনে বিভ্রান্তিকর তথ্য। সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্প্রতি টিআইবি কর্তৃক স্বাস্থ্যখাত সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী একথা জানান। টিআইবি জরিপ প্রসঙ্গে প্রথমেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনার সবশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, যেখানে WHO চাহিদা অনুযায়ী একটি দেশের ৭০ ভাগ মানুষের টিকার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৭৫ ভাগ জনসংখ্যাকে অর্থাৎ প্রায় ১৩ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বুস্টার ডোজই দেয়া হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষকে। টিআইবি রিপোর্টে জরিপ করা হয়েছে মাত্র ১৮০০ মানুষের ওপর। স্বাস্থ্যখাত টিকা দিয়েছে ১৩ কোটি ডোজ। তাহলে কোথায় ১৩ কোটি মানুষ আর কোথায় মাত্র ১৮০০ জন মানুষের জরিপের ফলাফল। সেই জরিপও করা হয়েছে ফোনে ফোনে কথা বলে। প্রতিবেদনে টিআইবি একটার পর একটা মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। টিআইবি প্রতিবেদনের অসংলগ্ন তথ্যগুলি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘টিআইবি বলেছে দেশের ৭ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ করোনায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। দেশে করোনায় ৩০ হাজারের কম মানুষ মারা গেছে অথচ তারা বলছেন ৭ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ মারা গেছেন বিনা চিকিৎসায়। টিকা ব্যবস্থাপনায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। আমরা কেবল নিজেদের কেনা ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছি। এর সাথে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ টিকা যেগুলো সরকার বিনামূল্যে পেয়েছে সেগুলোর মূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। ক্রয়কৃত ও উপহার হিসেবে পাওয়া টিকার মূল্য ধরেই ৪০ হাজার কোটি টাকা বলা হয়েছে। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে ৪০ লাখের বেশি ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি টিকা পায়নি। এটিও সঠিক তথ্য নয়। দেশে বর্তমানে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি আছে ১ কোটি ২০ লাখের মতো। সরকার সবার আগে বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা দিয়েছে। তারপর অন্যান্য মানুষকে দেয়া হয়েছে। কোথাও ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি টিকা পায়নি এমন কথা জানা যায়নি। এরমধ্যে যারা নেয়নি তারা ইচ্ছে করেই নেয়নি। তবে টিকাদানে সরকারের স্বদিচ্ছার কোন ঘাটতি ছিল না। টিকাদানে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে কোনো কোনো জায়গায় ৬৬-৬৭ টাকা করে ঘুষ দিয়ে টিকা নিতে হয়েছে। ৬৬-৬৭ টাকা আজকাল কাউকে এমনি এমনি দিলেও নিতে চায় না। অথচ এটি প্রচার করা হলো দুর্নীতি হিসেবে। ল্যাব সংখ্যা কম, চিকিৎসা সেবা পায়নি মানুষ। অক্সিজেন ঘাটতি ছিল নানা বিষয়ে জরিপে বলা হয়েছে যার কোনটিই সত্যি নয়। দেশে কোথাও অক্সিজেন ঘাটতি হয়নি। আমেরিকার রেমডিসিভির ওষুধ সবার আগে বাংলাদেশে চলে এসেছে, সেটিও সরকার বিনামূল্যে দিয়েছে। এরপরও টিআইবি বলছে দেশে ওষুধের ঘাটতি ছিল। মূলতঃ টিআইবি স্বাস্থ্যখাতের অর্জনকে ম্লান করে দিতেই এই রিপোর্ট করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে যখন দেশে বিদেশে সবাই প্রশংসা করছে তখন তারা এরকম মনগড়া ও ভীত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি পড়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশকেই ইনট্রান্সপ্যারেন্ট মনে হয়েছে। স্বাস্থ্যখাত টিআইবির এই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করছে বলে জানান তিনি। ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ সাইফুল হাসান বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমিএ সময় উপস্থিত ছিলেন।