পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে আরো দর্শক ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে

প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০২২ , ৯:২৩ অপরাহ্ণ

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংগৃহীত চিত্র।

নওগাঁ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার অষ্টম শতকে নির্মিত বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহারের নিদর্শন এবং হেরিটেজ সাইট। এ বিহারকে আরো দর্শক ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে অংশীজনের সভা, উন্নতমানের ফুডকোর্ট চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ। তবে প্রত্নতত্ত্ব আইন মেনেই এ বিহারকে আরো নান্দনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী শুক্রবার নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর জাদুঘর সেমিনার কক্ষে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে দর্শকবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় আয়োজিত অংশীজনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্য প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোর ব্যবস্থাপনা করা গেলে দর্শক ও পর্যটকদের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অংশীজনের সভায় পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে দর্শকবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ এসেছে। অন্যতম হলো- জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সুপেয় পানির সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসনের জন্য উন্নতমানের রিসোর্ট/মোটেল নির্মাণ, কারুপণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, মুক্তমঞ্চ/সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, মাস্টাররোলের কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ, জামালগঞ্জ রেলস্টেশনকে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজে রূপান্তর, পাহাড়পুরের বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগিয়ে আরো দৃষ্টিনন্দন ও ছায়া সুনিবিড় করা, রাতের পাহাড়পুরের সৌন্দর্য দেখার ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধি ও লজিস্টিক সাপোর্ট, পাহাড়পুরসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য পর্যটন স্পটসমূহকে ঘিরে পুনরায় ট্যুরিস্ট বাস চালুকরণ, পাহাড়পুরের আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ ইত্যাদি। কে এম খালিদ বলেন, পাহাড়পুরের উন্নয়নে যৌক্তিক পরামর্শ ও দাবিসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সুপেয় পানি সরবরাহ ও মুক্তমঞ্চ স্থাপনে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ শহিদুজ্জামান সরকার ও মোঃ ছলিম উদ্দিন তরফদার।