একটি চিহ্নিত মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করছে ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে

প্রকাশিত : আগস্ট ১, ২০২২ , ৪:৫৪ অপরাহ্ণ

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট চলছে বলে একটি চিহ্নিত মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করছে ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মন্ত্রী সোমবার মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের এ সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর জ্বালানি সাপ্লাই চেইন অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। পৃথিবীর প্রায় নব্বই শতাংশের বেশি দেশ প্রাথমিক জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারক দেশ হিসেবে এ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই মুহূর্তে ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই চলছে জ্বালানি সংকট। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য তারা ব্যাপকভাবে কমিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক উন্নত দেশেও বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এর অনিবার্য প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থায়। এ সময় মন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় ‘London narrowly avoided blackout as electricity prices surged last week’ শিরোনামে সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে, The UK was forced to pay 5,000% higher than the typical price for electricity to prevent a power blackout in South-East London. এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক শহরের মেয়র এরিক এডামসের একটি বক্তব্য তুলে ধরেন, যেখানে মেয়র বলেছেন, ‘We are in a financial crisis like you can never imagine…… Wall Street is Collapsing; we are in a recession’. রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও সারের মূল্য বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার নানামুখী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের নানান দেশ অসহনীয় এবং আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের মূল্যস্ফীতির হারের দিকে তাকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতা টের পাওয়া যায়। যেখানে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, জার্মানি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, রাশিয়া ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ, তুরস্ক ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ, নেদারল্যান্ড ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি ২১ দশমিক ৩ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। দেশের ভেতরে অনেকে শুধু মূল্যস্ফীতির কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের অবস্থাই তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। যারা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দেখতে চায়, উন্নয়ন বিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্রতিভূ তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।