সব রকমের ভণ্ডামি ভুলে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে হবে

প্রকাশিত : আগস্ট ২৯, ২০২২ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু অনুসৃত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং শোষিতের গণতন্ত্রের আদর্শের কারণে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তাদের এ দেশীয় দোসর, একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকরা এক ও অভিন্ন। ষড়যন্ত্রকারীরা চিহ্নিত। তারা এখনো বিভিন্নভাবে সক্রিয়। তাই সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সব রকমের ভণ্ডামি ভুলে সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে হবে। সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ২৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন। তিনি গোড়া থেকেই পূর্ববাংলার স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তার ৬ দফা ছিল স্বাধীনতার সেতু। তাই পাকিস্তান তা মেনে নিতে পারেনি। পাকিস্তান সব সময় চেয়েছে তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাহিরে রাখতে। তিনি ধাপে ধাপে স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে তৈরি করেছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি নিরস্ত্র বাঙালিকে একটি সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য তৈরি করেছিলেন। কিন্ত তিনি এই ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। তারও একটা যোক্তিকতা ছিল। তিনি চেয়েছিলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। যখনই পাকিস্তান পূর্ববাংলায় গণহত্যা শুরু করলো তখনই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। এবং তখনই সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষ আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা। মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির বিপরীত ধারা সামরিক স্বৈরাচার, অপরাজনীতি, ধর্মকে ক্ষুদ্র ও হীনস্বার্থে ব্যবহার করার রাজনীতি। রাজনীতি একটি ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু রাজনীতির এই ভিন্ন ধারায় আদর্শিক কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ যে আদের্শের রাজনীতি করে, তা উদার মানবতাবাদী, অসাম্প্রাদায়িক রাজনীতি, সেই রাজনীতির বিরোধিতা করা ভিন্ন ধারার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। অর্থাৎ পুরোটাই নেতিবাচক। একটি আদর্শের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। তাদের নিজস্ব কোনো আদর্শিক অবস্থান খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা নিজেদের আদর্শকে সামনে আনছেন না। কারণ মানুষ হত্যা করা ষড়যন্ত্র করা, ক্যু করা, অগ্নিসন্ত্রাস করা এগুলো কোনো আদর্শ হতে পারে না, এগুলো রাজনীতির উপাদান হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু এই অপরাজনীতির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে মানুষের অধিকারের পক্ষে, অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনীতি করেছেন।