প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কে জানলে জেন্ডার বৈষম্য কমে যাবে

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ , ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় বিষয় হচ্ছে যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কে জানা। যখনই যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনভাবে মানুষ জানবে তখনই একে অপরের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মাধ্যমে শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে একসঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তাহলে জেন্ডার বৈষম্য কমে যাবে এবং সুস্থ ও উন্নত সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বুধবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জেনারেশন ব্রেক থ্রু প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) নিয়ে জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সঠিক তথ্য সঠিকভাবে কিশোর-কিশোরীদের কাছে যদি পৌঁছানো যায় তাহলে অনেক সমস্যা থেকে তাদের দূরে রাখা যায়। রবি ঠাকুর বলে গিয়েছেন, বিশেষত তের-চৌদ্দ বছরের মতো বালাই আর নেই। এই সময়টায় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক পরিবর্তন আসে। অথচ এই পরিবর্তনগুলো জানা নেই। বাবা-মায়েরা বলতো না, বয়ঃসন্ধিকালীন চেপ্টার শিক্ষকরা পড়াতেন না, বলতেন পড়ে নিও। মন্ত্রী বলেন, এই বয়সে একটা রূপান্তর ঘটে। নানা রকম বোধ হতে থাকে কখনও খারাপ লাগে কখনও ভালো লাগে। এই সময়টি নিয়ে মানুষ এখনও সচেতন না। সময়টা অনুসন্ধিৎসু সময়। কিন্তু তথ্য পাচ্ছে না। তখন নিজেদের মধ্যে অনেক রকম ভুল-ভ্রান্তি এসে জমা হয়। শারীরকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানসিকভাবে তো বটেই। কিশোর-কিশোরীরা জীবনের ভুলভ্রান্তিগুলো পরবর্তী জীবনেও নিয়ে যায়। যার ফলে জেন্ডার বৈষম্যের সৃষ্টি হয়, নানা নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। আমরা অনেক সময় মনে করি যৌন নির্যাতন শুধু নারীর ওপরই ঘটে তা শুধু নয় পুরুষের ওপরও ঘটে। বিশেষ করে কিশোরদের ওপর নির্যাতন ঘটে। যদি না জানা থাকে তাহলেই কেবল কিশোর- কিশোরীর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কারণ সে জানে না সে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কি না? নির্যাতন কি না সেটা যেমন সে জানে না, নির্যাতনের শিকার হলে কী করতে হবে তাও সে জানে না। দীপু মনি বলেন, জেনারেশন ব্রেক থ্রু প্রজেক্টে যুক্ত ছিলো শুধু তারাই এই শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তারা জেনে অন্যদের শেয়ার করছে। অন্যদেরও জানাতে পারছে তাদের দক্ষতাগুলো। মাদ্রাসাগুলোতেও যদি আমরা তথ্যগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে তারাও এ বিষয়গুলো ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।