বাংলাদেশের চিনি শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২ , ৭:০১ অপরাহ্ণ

চুয়াডাঙ্গা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেছেন, বাংলাদেশের চিনি শিল্প শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুয়ায়ী উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। উচ্চ ফলনশীল আখ উদ্ভাবন এবং আখচাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, আখের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য প্রণোদনা প্রদান করছি যাতে কৃষকরা পুনরায় আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। সচিব গুণগত মানসম্পন্ন ও উচ্চ ফলনশীল আখ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর আওতাধীন ঝিনাইদহ জেলার মোবারকগঞ্জ সুগারমিলে প্রদর্শনী ফিল্ড ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় কেরু এন্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রদর্শনী ফিল্ড পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন। এসময় বিএসএফআইসি’র চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুর রহমান অপু, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটি) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গোলাম মইন উদ্দিন, চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় আখচাষিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সচিব বলেন, ইক্ষুর জাত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গুণগতমানসম্পন্ন আখ উৎপাদনে সহায়তা এবং উদ্বুদ্ধকরণে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সঙ্গে বিএটি বাংলাদেশ একযোগে কাজ করে চলেছে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি যার মধ্যে বিএটি বাংলাদেশের এই মডেল প্রকল্প অন্যতম। এ ধরনের উদ্যোগ দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের প্রান্তিক চাষি আখ চাষ উদ্বুদ্ধ হবে এবং ফলস্বরূপ চিনি কলগুলোতে পুনরায় গতির সঞ্চার হবে বলে আমার বিশ্বাস। সচিব আরো বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় বন্ধু সেবা অ্যাপের সাহায্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন এসএমএস এর মাধ্যমে অ্যাপটির ডেটাবেজে সংরক্ষিত প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি আখচাষিকে আখের পরিচর্যার জন্য কখন কি করণীয় ও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএম এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক হ্যালো চাষি অ্যাপে সংরক্ষিত ডেটাবেজে বিদ্যমান মোবাইলে নাম্বারে সরাসরি ফোন দিয়ে আখচাষিদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা অবহিত হওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের জন্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিএটি বাংলাদেশ এর সাথে বিএসএফআইসি যৌথভাবে আখচাষে উত্তম চর্চার মাধ্যমে আখের ফলন ৫০-৬০ মে.টন উন্নীত করার নিমিত্ত ৫ টি চিনিকলের খামার ও প্রগতিশীল আখচাষিদের ৩০ দশমিক ২৫ একর জমিতে বীজবর্ধন প্রদর্শনী আখক্ষেত স্থাপন করা হয়েছে যার অদ্যাবধি অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। স্থাপিত প্রদর্শনী প্লটগুলো দেখে আখচাষীদের মাঝে আখের ফলন বৃদ্ধিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরে শিল্প সচিব চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু এ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড প্রাঙ্গণে ২০২২-২৩ মৌসুমের আখ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এবং কেরু এন্ড কোম্পানির বিএমআরই কার্যক্রম, ডিস্টিলারি শাখা ইত্যাদি ঘুরে দেখেন ও প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক রাখতে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।