সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ১১:২৪ অপরাহ্ণ

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২য় ভাগের ২৩ক ধারায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈচিত্র্যময় ও বর্ণিল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে। সে সাংবিধানিক ম্যান্ডেট অনুযায়ী সরকার তফসিলভুক্ত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ, পরিচর্যা, বিকাশ ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সচেতন ও আন্তরিক। প্রতিমন্ত্রী শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে চাকমা সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় লোক কাহিনি অবলম্বনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট খাগড়াছড়ি কর্তৃক চাকমা ভাষায় নির্মিত প্রথম গীতি-নৃত্য-নাট্য ‘রাধামন-ধনপুদি’র পরিবেশনা উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন পার্বত্য জেলা পরিষদ খাগড়াছড়ির সদস্য শতরূপা চাকমা। প্রধান অতিথি বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন-২০১০’ অনুযায়ী ৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে নওগাঁ, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও দিনাজপুরে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের সংস্কৃতি সুরক্ষার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং জনবল কাঠামোও অনুমোদিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ তিনটি প্রতিষ্ঠান আইনের মাধ্যমে পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসাবে যাত্রা শুরু করবে। এ তিনটিসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০টিতে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে দুইটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনসাধারণের সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক জিতেন চাকমা। উল্লেখ্য, চাকমাদের গীতি-নৃত্য-নাট্য ‘রাধামন-ধনপুদি’র এটি ১০ম পরিবেশনা। চাকমা সমাজের জনপ্রিয় তিনটি গীতধারা হচ্ছে গেংখুলি, উভোগীত, টেঙাভাঙ্গা গীত। এ তিনটি গীতিধারার সমন্বয়ে কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে রাধামন ধনপুদির বিভিন্ন কাহিনি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।