জনগণের টাকায় সরকারি হাসপাতালে জনগণকে সঠিক সেবা দিন

প্রকাশিত : অক্টোবর ১০, ২০২২ , ১০:৩০ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সোমবার চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে চট্রগ্রামের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের সাথে যুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্সদের সাথে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী চট্রগ্রাম বিভাগের হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে চান। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ গত দুই মাসে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে। হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে ভালো কাজের পাশাপাশি বেশ কিছু সমস্যা সামনে চলে এসেছে। এগুলো মেনে নেয়া যাবে না। জনগণের টাকায় এই সরকারি হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হয়েছে, তাহলে জনগণের চিকিৎসা সেবায় ঘাটতি থাকে কীভাবে?’ তিনি বলেন, ভালো ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে দেশ থেকে হাজারো মানুষ ভারত, সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে। এতে আমাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ দেশেই ভালো চিকিৎসা, ভালো ব্যবহার ও মেশিনগুলোর সঠিক প্রয়োগ করতে পারলে, এই বিলিয়ন ডলার দেশেই রাখা যেত। একারণেই, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গোটা দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে মাঠে নেমেছি। আমরা ইতোমধ্যে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। যেহেতু সমস্যাগুলো আমরা ধরতে পেরেছি, তাই সমস্যাগুলোর সমাধানও হবে। করোনার মতো এত বড় মহামারি প্রতিরোধে আমরা যদি বিশ্বে ৫ম স্থান লাভ করতে পারি, দক্ষিণ এশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমরা কেন ব্যর্থ হবো- প্রশ্ন রাখেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘নিজ নিজ হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন করে ফেলুন, সেবার মান বাড়ান, যা লাগে তা নিন, লোকবল লাগে নিয়োগ দিন, বেড বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে বেড ডাবল করে নিন, কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান আপনাকে ভালো করতেই হবে। এরপর আর সুযোগ পাবেন না।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তাদের নিজ নিজ অফিসের কাজের অগ্রগতি ও সমস্যাদি নিয়ে জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে দিক নির্দেশনা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এর আগে চট্রগ্রাম বিভাগীয় হাসপাতাল পরিদর্শন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন করেন এবং চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে উপজেলা সরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ বেড হাসপাতাল থেকে ৩১ বেডে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম আমির খসরু, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর আহমেদুল কবীর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর শামিউল ইসলাম সাদীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।