শীঘ্রই বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি

প্রকাশিত : অক্টোবর ১১, ২০২২ , ১১:১০ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সাথে কসোভোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী Kreshnik Ahmeti দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে শীঘ্রই বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে দুই নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটির খসড়া কসোভোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এক মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছি। চুক্তিটিতে সামান্য কিছু সংশোধন রয়েছে। এটি স্বাক্ষরের বিষয়ে আমরা পুরোপুরি একমত। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলে আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। কসোভোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী Kreshnik Ahmeti বলেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলকে যথাশীঘ্র কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সেখানে দুই দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। কে এম খালিদ বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৫টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে সর্বশেষ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
কসোভোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ক্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। অন্যদিকে সার্বিয়ান আগ্রাসনের কারণে কসোভোর লোকজনও উপযুক্ত শিক্ষাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো। সে বিবেচনায় দু’দেশই একই ধরনের ইতিহাসের অংশীদার। Kreshnik Ahmeti বলেন, ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দেয়ার পর দেশটি বাংলাদেশে দূতাবাস চালু করে। তাছাড়া দু’দেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা যাতে ভিসা ছাড়াই চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। কসোভোকে উৎসবের দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কসোভোতে প্রতিবছর বেশকিছু চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এসব উৎসবে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বিষয়টি সহজতর হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ বিষয়ক একটি উপস্থাপনা পেশ করেন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে রিপাবলিক অব কসোভো’র এশিয়া ও ওশেনিয়া বিভাগের প্রধান Berisha Lirijie, বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত Guner Ureya, পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার Imri Hoxha, রিপাবলিক অব কসোভো দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান Visar Kluna এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইমরুল চৌধুরী, যুগ্মসচিব সুব্রত ভৌমিক, উপসচিব মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক অনির্বাণ নিয়োগী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।