ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারকারীদেরও প্রস্তুতি থাকতে হবে

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৩, ২০২২ , ১০:১০ অপরাহ্ণ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দেশ যত বেশি ডিজিটাল হবে, ডিজিটাল অপরাধ তত বেশি বাড়বে। ডিজিটাল অপরাধ ডিজিটাল প্রযুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার পাশাপাশি ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারকারীদেরও ডিজিটাল অপরাধ মোকবিলার প্রস্তুতি থাকতে হবে। মন্ত্রী ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় প্যারেন্টাল গাইডেন্স অনুসরণ ও প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক স্তরে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়টি পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিটিআরসি মিলনায়তনে বিটিআরসি ও সাইবার ক্রাইম ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে’ শীর্ষক দিনব্যাপী যুব কর্মশালা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ। আলোচনায় অংশ নেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তৌহিদ ভূঁইয়া, ডিজিটাল সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (ডিএসএ) পরিচালক তারেক বরকতুল্লাহ, পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম প্রমুখ। মন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধানে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কৌশল ও কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, আমরা ২৬ হাজার পর্নো সাইট ও ৬ হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি। প্রতিদিনই এমন সাইট বন্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশ এক সময় পর্নো ব্যবহারকারীর তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে ছিলো। সে অবস্থা এখন পাল্টেছে, শত দেশের তালিকাতেও এখন বাংলাদেশের নাম নেই। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষতিকর লিংক অপসারণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সংযোজনের প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষতিকর উপাত্ত প্রত্যাহারে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হচ্ছে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রত্যেক থানায় ডিজিটাল ক্রাইম ইউনিট থাকা উচিত। ডিজিটাল অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে যে সব অপরাধ নিয়ে চিন্তা করতে হয় ২০ বছর আগে সেগুলোর অস্তিত্ব ছিল না। এখন এই অপরাধের পরিধি যুদ্ধ-বিগ্রহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এক দেশ অস্ত্র দিয়ে যেমন হামলা করে তেমনি করে ডিজিটাল অস্ত্র দিয়ে হামলা করে তাকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করে। অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিটিআরসি’র সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ডিজিটাল অপরাধ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।