হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সৃষ্টিকর্মে সকল শ্রেণির পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন

প্রকাশিত : নভেম্বর ১২, ২০২২ , ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সৃষ্টিকর্মে সকল শ্রেণির পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন। তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে আকৃষ্ট করেছেন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজেরও অসাধারণ আগ্রহ ছিল তাঁর বইয়ের প্রতি। হুমায়ূন আহমেদের একটি বই পড়া শুরু করলে শেষ না করে উঠতাম না। এমনকি খাবার টেবিলেও বইটি নিয়ে যেতাম। প্রতিমন্ত্রী শনিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০২২’ প্রদান অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০২২’ এর জন্য গঠিত বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি, খ্যাতিমান কথাশিল্পী ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো সোচ্চার ও সক্রিয়। পাকিস্তান যেমন ধর্মকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করেছিল, তেমনি দেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চায়, মানুষকে শোষণ করতে চায়। তিনি বলেন, দিন যতো যাবে ততই হুমায়ূন আহমেদের কদর আরো বাড়বে। এ অমর কথাশিল্পী সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ’৭৫ এর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজাকার বা হানাদার বাহিনী শব্দ লেখা নিষিদ্ধ ছিল। সেই পরিস্থিতিতেও হুমায়ুন আহমেদ ‘তুই রাজাকার’ শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন, লিখেছিলেন। ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০২২’ পেয়েছেন সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য প্রবীণ কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক ও নবীন সাহিত্য-শ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছর বয়স্ক লেখক) কথাশিল্পী মৌরি মরিয়ম তার ‘ফানুস’ উপন্যাসের জন্য। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এক্সিম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মোঃ আব্দুল বারী এবং বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা, হুমায়ূন-পত্নী মেহের আফরোজ শাওন। শংসাবচন পাঠ করেন বিচারকমণ্ডলীর সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আজিজুল হক ও স্বনামধন্য কথাশিল্পী বিশ্বজিৎ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। উল্লেখ্য, কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ যাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে, ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে, পরের চার দশক আপন সৃষ্টিশীলতায় আচ্ছন্ন রেখেছেন কোটি বাঙালিকে। পরিস্থিতি নির্মাণ, বর্ণনাভঙ্গি, সংলাপে তিনি এমন শৈলীর উদ্ভাবন করেছেন যা বাংলা সাহিত্যে অদ্বিতীয় ।