ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী দাঁড় করিয়েছে

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০২২ , ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী দাঁড় করিয়েছে। মানব সভ্যতা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। চতুর্থ নয় পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার, একাডেমিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রযুক্তিবিদদের সমন্বিত উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বিশ্বের শিক্ষানেতাদেরকে লাগসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন ইউরোপীয়রা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলে। সেটি একটি যান্ত্রিক বিপ্লব। তাদের মানুষ নাই তাই যন্ত্র দিয়ে মানুষের অভাব পূরণ করতে চায়। আমরা যন্ত্র চাই তবে মানুষকে বাদ দিয়ে নয়। আমরা তাই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের পথে হাঁটছি।
মন্ত্রী মঙ্গলবার ঢাকায় হোটেল রেডিসনে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষানেতাদের অন্যতম শীর্ষ সংস্থা এসোসিয়েশন অভ্ ইউনিভার্সিটিজ অভ্ এশিয়া প্যাসিফিক (এইউএপি) এর ১৫ তম সাধারণ সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যুগে তথ্যপ্রযুক্তি এবং গুণগত শিক্ষার মধ্যে সমন্বয়’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের ১০টি দেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদগণ এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এইউএপি-এর সভাপতি ড. পিটার লি লওরেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ভারতের কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অভ্ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতীয় লোকসভার সদস্য প্রফেসর ড. অচৎ সামন্ত, এসোসিয়েশন অভ্ ইউনিভার্সিটিজ অভ্ এশিয়া প্যাসিফিক (এইউএপি) এর প্রথম সহ-সভাপতি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খান, এসোসিয়েশন অভ্ ইউনিভার্সিটিজ অভ্ এশিয়া প্যাসিফিক (এইউএপি) এর মহাসচিব প্রফেসর ড. রিকার্ডো পি পামা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আগামী দিনের পৃথিবীর জন্য উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্বের শিক্ষানেতাদের ভূমিকা অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি তুলনাহীন। তাদেরকে যথাযথ পরিচর্যা করতে পারলে প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সহজতর হবে। মন্ত্রী ২০১৬ সালে প্রকাশিত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারণাটিকে যান্ত্রিক উল্লেখ করে বলেন, ড্রাইভারবিহীন গাড়ি আর কর্মী ছাড়া গার্মেন্টস পশ্চিমা দুনিয়ার জন্য আবশ্যক মনে হতে পারে কিন্তু আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য হবে অমানবিক। ২০১৮ সালের পর পঞ্চম শিল্প বিপ্লব ধারণাটি বিশ্বে সমাদৃত হয়ে উঠেছে। যেখানে জাপানের সোসাইটি ফাইভ পয়েন্ট জিরো যন্ত্র ও মানুষের সমন্বয়ে সমন্বিত হওয়ায় সেটা মানবিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের এই অগ্রদূত বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ধারণাটি প্রকাশের আট বছর আগে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কোভিডকালে প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল কর্মসূচি এই সময় মানুষের অচল জীবনযাত্রা সচল রাখে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, ব্ল্যান্ডিং এডুকেশনসহ দেশে পঞ্চম শিল্পযুগের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ চলছে। এই সম্মেলন শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরসহ দুই বছর করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগের এবং সমাধানের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এইউএপি-এর লক্ষ্য হলো সংস্থাটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ও সহযোগিতার সুহৃদ সম্পর্ক বৃদ্ধি করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সর্বোপরি উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকরী মঞ্চ তৈরি করা। পরে মন্ত্রী ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।