বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ১৭টি অনুষ্ঠান বাতিল করেছে আইসিটি বিভাগ

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৭, ২০২২ , ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমান অর্থবছরের ১৭টি অনুষ্ঠান বাতিল করেছে আইসিটি বিভাগ। বৃহস্পতিবার অনলাইনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এবং অনুষ্ঠেয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি বিষয়ক এ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ-সহ প্রমুখ। প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নতি লাভ করছে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে আইসিটি বিভাগ। করোনাকালীন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। একই সাথে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানারকম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপরামর্শে বাংলাদেশও তার রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন কৌশল অবলম্বন করে। এরই আলোকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব পরিচালনা কৌশলে পরিবর্তন আনতে শুরু করে। পলক আরো বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরিতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ইভেন্টে অংশগ্রহণ করাসহ আয়োজন করে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরেও বিভিন্ন রকম আয়োজন অন্তর্ভুক্ত আছে। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিশেষ কৌশলের আলোকে আইসিটি বিভাগ বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যয় সংকোচনসহ নিয়মিত ক্যাম্পেইন, ইভেন্ট বা অনুষ্ঠান আয়োজনে কিছুটা পরিবর্তন আনে। প্রতিমন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ফ্ল্যাগশিপ অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আয়োজনগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০২২, ডিজিটাল ডিভাইস এন্ড ইনোভেশন এক্সপো, বিপিও সামিট, ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ, ন্যাশনাল হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, ১৬তম ইন্টারন্যাশনাল চিল্ড্রেনস ফিল্ম ফেস্টিভাল, ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন আইটি (ডব্লিউসিআইটি), বাংলাদেশ ইন্ডিয়া স্টার্টআপ এক্সচেঞ্জ, জাপান আইটি উইক, চ্যানেল আই ডিজিটাল বাংলাদেশ মিডিয়া এওয়ার্ড, রোডশো দুবাই/লন্ডন ব্রান্ডিং, ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো, কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়া (সিআইসিএ) অন বাংলাদেশ, টেক কার্নিভাল, বিজয় দিবসের যান্ত্রিক বহরে ব্রান্ডিং, বুয়েট সিএসই ফেস্ট এবং আইসিটি জাম্বুরি (বাংলাদেশ স্কাউট) আয়োজনগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখিত কয়েকটি ইভেন্টের জন্য ইতোমধ্যে ইওআই ও ওটিএম আহ্বান করা হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইভেন্টসমূহ এবছর বাতিল করা হয়েছে। তবে জাতীয় দিবস বিবেচনায় “ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস” সীমিত পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী পলক আরো জানান, উল্লেখিত অনুষ্ঠানগুলোর জন্য মোট বাজেট ছিল ৭৫ কোটি টাকা। দেশের স্বার্থে ও জনগণের স্বার্থে ১৭টি অনুষ্ঠান বাতিল করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস ঢাকা আয়োজন না করা হলে উক্ত আয়োজনের প্রায় ৩০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হত। কিন্তু ২০১৭ সালে আইসিপিসি আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় যার ফলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সম্মান অটুট রাখার জন্য প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বকাপ নামে খ্যাত উক্ত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আইসিটি বিভাগ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সামগ্রিকভাবে ব্যয়ের পরিমাণ হ্রাসকরণে সচেষ্ট। উল্লেখ্য, ভুল বশত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গত ১৫ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে “চলতি অর্থবছরে অনুষ্ঠানের জন্য ৭৫ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিটি বিভাগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয় যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নজরে আসে। উক্ত সংবাদটির শিরোনাম ও উল্লেখিত তথ্যাদি পাঠক কিংবা জনসাধারণের নিকট ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বিধায় এ প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্পূর্ণ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে আইসিটি বিভাগ।