সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির ডিজিটাল লটারির ফল প্রকাশ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১২, ২০২২ , ১১:৩২ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ডিজিটাল লটারির ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলায়তনে এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আবু বকর ছিদ্দীক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও টেলিটক- উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চাহিদা মোতাবেক দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের জন্য একটি ডায়নামিক সফটওয়্যার ডেভেলপ করা হয়। এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুসরণ করে ভর্তির জন্য ছাত্রছাত্রী নির্বাচন করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া চাহিদা মোতাবেক ছাত্র-ছাত্রী নির্বাচন করা হয়েছে। ওই প্রক্রিয়ায় সর্বমোট ৩ হাজার ৩৯২ প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪০টি সরকারি এবং দুই হাজার ৮৫২টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ডিজিটাল লটারির এই প্রক্রিয়ায় ৯ লাখ ১২ হাজার ৬৪৪টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। দুইটি পদ্ধতিতে ভর্তি সংক্রান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে। প্রথম পদ্ধতি : যেকোনো টেলিটক মোবাইল নাম্বার থেকে GSA<space> RESULT <space> USERID এসএমএস করতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি ম্যাসেজে উত্তর পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় পদ্ধতি : অনলাইনে ফলাফল পেতে ওয়েবসাইটে https://gsa.teletalk.com.bd) ব্রাউজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, মেধার সমন্বয় করতেই লটারিতে ভর্তি ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে শ্রেণি রোল নম্বর নির্ধারণ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, অশুভ প্রতিযোগিতার হাত থেকে শিক্ষার্থীর মানসিক চাপমুক্ত রাখা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মেধার সমন্বয় করতে লটারিতে ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘লটারিতে ভর্তির ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেকে ভালোভাবে নিয়েছেন, অনেকে সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি একজন রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগে সে মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। তার কারণ আদালতকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি এই পদ্ধতিটি ভালো। এতে ইতিবাচক দিক রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার সমন্বয় হবে। লটারিতে ভর্তি-অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা, শিশুদের প্রতি মানসিক চাপ প্রশমন, অর্থ সাশ্রয়, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অশুভ প্রতিযোগিতা বন্ধ করে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ার অধিকার তৈরি হওয়ার কারণে এটি ভালো ব্যবস্থা। সে কারণে আদালতে রিট খারিজ হয়েছে।’ ডা. দীপু মনি বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে সরকারি বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিশুদের চাপের মধ্যে থাকতে হতো। আনন্দের সঙ্গে স্কুলে গিয়ে লেখাপড়ার অবস্থা থাকতো না। যে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতো সেই বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে শিক্ষার্থী হতাশায় ভোগে।’ ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় কোটা কমানোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় কোটা বাড়ানো উচিত। সারা দুনিয়াতে শিক্ষার্থীরা ক্যাচমেন্ট এরিয়া থেকেই আসে। স্কুলের আশপাশ থেকে যদি আসে তাহলে শিক্ষার্থীর জন্য যেমন ভালো, তেমনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ভালো।’ ফলাফলের ভিত্তিতে রোল নম্বর নির্ধারণ নয় ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষা বিষয়ে একটি শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা। গবেষণা করে দেখতে হবে কোনদিকে আমাদের বেশি নজর দেওয়া দরকার। তাহলে আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।