গৃহহীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের জন্য বিশেষ গৃহায়ন প্রকল্পের উদ্যোগ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৫, ২০২২ , ১:০১ পূর্বাহ্ণ

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন ‘ভূমি ব্যবহার ও মালিকানা স্বত্ব’ আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের পথে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে, পরবর্তী বাজেট অধিবেশনের পূর্বেই সংসদে আইন তৈরির জন্য তা প্রেরণ করা হবে। তিনি সরকারের গৃহায়ন কর্মসূচির আওতায় গৃহহীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নেটজ পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড জাস্টিস (নেটজ বাংলাদেশ) এর আয়োজনে ‘দ্বন্দ্বের পরিবর্তনশীলতা এবং অহিংস রূপান্তরমূলক পদ্ধতি : প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকারের ওপর একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এই সময় ভূমিমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন একই সময় ‘ভূমি ব্যবহার স্বত্ব গ্রহণ আইন’ এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর খসড়াও সংসদে প্রেরণ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী জানান, ‘ভূমি ব্যবহার ও মালিকানা স্বত্ব আইনে’র আওতায় নাগরিকদের ‘সার্টিফিকেট অভ্‌ ল্যান্ড ওনারশিপ’ তথা সিএলও নামক একটি ডকুমেন্ট দেওয়া হবে যেখানে ভূমি মালিকানার সব তথ্য থাকবে – জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের দলিলাদির প্রয়োজন হবে না। এছাড়া একই সাথে স্মার্ট কার্ডও দেওয়া হবে। কার্ডে মালিকানার সব ডিজিটাল তথ্য থাকবে। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ আইনের আওতায় অবৈধ ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে উপযুক্ত শাস্তি ও জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। ‘ভূমি ব্যবহার স্বত্ব গ্রহণ’-আইনের আওতায় মাটির তলদেশ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপন ও মাটির নিচে অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরো জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন হবে না, অধিকন্তু জমির মালিক আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন। মন্ত্রী বলেন, তিনটি আইন পাস হলে তা ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে যা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার আনবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা বাংলাদেশি। বাংলাদেশ বহু নৃগোষ্ঠী সংবলিত একটি দেশ। মন্ত্রী মনে করেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ শেষ হলে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি বলেন, আমরা নাগরিকদের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করছি এবং দেশের অপেক্ষাকৃত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকরামুল হক অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।