উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের জীবনমানের আরো উন্নতি হবে

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৯, ২০২২ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সংগৃহীত চিত্র।

সিলেট, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের মানুষের জীবনমানের আরো উন্নতি হবে। মন্ত্রী বৃহস্পতিবার তাঁর নির্বাচনি এলাকা সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিকদের মাঝে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ৭ শত কম্বল বিতরণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী মোমেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা মোমেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বারো বছর আগের চেয়ে দেশের অবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। বন্যার সময় কোনো লোক না খেয়ে মারা যায়নি। কোভিড মহামারিতেও আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় খুব কম ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু বানিয়েছি। এখন তিন ঘণ্টায় বরিশালে যাওয়া যায়। আগে সাত-আট ঘণ্টা লাগতো।’ বর্তমান সরকারের সময়ে সিলেটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের সবগুলো উন্নয়ন কাজ যদিও এখনো শেষ হয়নি, তবে এর মধ্যে সিলেটের ওসমানী হাসপাতাল অনেক উন্নত হয়েছে এবং আরো হবে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করে তাদের কাজের গতি বাড়াতে বলে এসেছি। এই এয়ারপোর্টের কাজ সম্পন্ন হলে এখানেও অনেকের কর্মসংস্থান হবে। অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছে। এই মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে আর ৭ ঘণ্টা লাগবে না-তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়া যাবে। এছাড়া সিলেট থেকে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ ড. মোমেন বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছেন। উন্নত দেশে আমরা মেট্রোরেল দেখেছি। এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশেও মেট্রোরেল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এবং নির্ভীক। পদ্মাসেতু বন্ধ করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল- শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে পদ্মাসেতু বানিয়ে দেখালেন। মেট্রোরেলের কাজ শুরু করতেও বাধাগ্রস্ত হতে হয়েছিল। হলি আর্টিজানে হামলায় মেট্রোরেলের সংশ্লিষ্ট জাপানি ইঞ্জিনিয়াররা নিহত হলেন। তখন এই মেট্রোরেল বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। এজন্য জাপানকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই যে, তারা এই প্রতিকূল অবস্থায় আমাদের পাশে ছিল। এখন মেট্রোরেলের একটি অংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে। কাজেই আমরা উন্নতির দিকে যাচ্ছি। আর এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে আপনাদের জীবনমানের আরো উন্নতি হবে। আর আপনাদের যে দাবি-দাওয়া, উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এসব দাবি-দাওয়াও পূরণ করতে পারবো।’ সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আজমেরী হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ আশফাক আহমদ বক্তব্য রাখেন।