স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্মার্ট পাঠদান পদ্ধতি অপরিহার্য

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৩ , ৬:৩২ অপরাহ্ণ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইন্ডাস্ট্রির উপযোগী স্মার্ট পাঠদান পদ্ধতি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, আজকের পৃথিবীতে শিক্ষা মানে ডিজিটাল প্রযুক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির শিক্ষা। শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্মার্ট জনশক্তি তৈরি করে আমাদের পপুলেশন ডিভিডেন্টের বিরাট সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে। তিনি এ সময় একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে সমন্বিত উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ হাইয়ার এডুকেশন : বাংলাদেশ কনটেক্সট’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী শিক্ষায় প্রথাগত পদ্ধতির সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। আমরা কেবল প্রথাগত শিক্ষার সার্টিফিকেট দিব কিন্তু তাদেরকে ডিজিটাল দক্ষতা দিব না, এটা হতে পারে না। ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের এই অগ্রদূত বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরির নাম হচ্ছে ইন্টারনেট। সেই লাইব্রেরি থেকে তথ্য নেওয়ার দক্ষতা দিতে হবে, প্রচলিত শিক্ষায় এটি দেওয়া হয় না।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লবে শরিক হতে না পেরে এই দেশের মানুষ প্রযুক্তিতে শত শত বছর পিছিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তাঁর পাঁচ বছরের শাসনামলে দেশে ভি-স্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুসহ যুগান্তকারী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে শরিক করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গত ১৪ বছরে বাংলাদেশকে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বের যোগ্যতায় উপনীত করেছেন। মন্ত্রী শিক্ষাকে আনন্দদায়ক শিক্ষায় রূপান্তরের পদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, আমরা প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেছি। এই সব কনটেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে এবং এক বছরের সিলেবাস তারা তিন মাসে শেষ করতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি দেশের ৬৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠ প্রদানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, পার্শ্ববর্তী স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠ গ্রহণের জন্য ছুটে আসছে এসব স্কুলে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটিং এন্ড ইনফরমেশন রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ডেভিড জে ব্রাউন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর বিশ্বজিৎ চন্দ্র এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর রাশেদা আক্তার বক্তৃতা করেন।