শিথিলের আগেই অনেকটা স্বাভাবিক রাজধানী

Mehedi Hassan Niaz

প্রকাশিত : আগস্ট ৯, ২০২১ , ১:০৬ অপরাহ্ণ

আর মাত্র একদিন পরেই শিথিল হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ। তার আগেই সোমবার (৯ আগস্ট) ঢাকার রাজপথ অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। গণপরিবহন না চললেও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে রাস্তা একেবারে পরিপূর্ণ। আজ রাজধানীর সবগুলো প্রবেশপথে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় আরো বেড়েছে। হাজার হাজার মানুষ আজকালের মধ্যে ফিরেই ১১ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে যোগদান করবেন। তাই সড়ক-মহাসড়ক সর্বত্রই মানুষের চাপ বেড়েছে।

আজও আমিনবাজার ও গাবতলী এলাকায় সকাল থেকেই বেড়েছে মানুষের ভিড়। হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। ফরিদপুর মধুখালী থেকে আসা আব্দুল্লাহ জানান, তিনি একটি শপিংমলের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করেন। বুধবার থেকে মার্কেট খুলবে। তাকেও কাজে যোগ দিতে হবে। এজন্য তিনি কষ্ট করে হলেও ভেঙে ভেঙে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। তার মতো আরও অসংখ্য মানুষ একা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন।

ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ রয়েছে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। এসব এলাকা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় ফিরছে। কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার আগেই ঢাকা প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের পরিবহনের চাপ থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়। কোন কোন সড়কে যানবাহন ধীর গতিতে চলে। সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনের পাশাপাশি পণ্যবাহী সব ধরনের যান, ট্রাক, রিকশার ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টায় সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সব সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ চেকপোস্টের কাছে কিছু সময়ের জন্য গাড়ির জট তৈরি হয়। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ তৎপরতা হয়ে ওঠে। রাজধানীর সাতরাস্তা, মহাখালী, বনানী, কাকলী, ও বিমানবন্দর সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি এবং অন্যান্য গাড়ির ব্যাপক চাপ রয়েছে।

প্রায় সব এলাকার ছোট দোকান আজ খুলেছে। বড় মার্কেট বা শপিংমলগুলো না খুললেও ভেতরে বাইরে পরিষ্কার পরিছন্নতা কাজ শুরু হয়েছে। ধুয়ে মুছে ১১ তারিখ সকাল থেকেই বেচাকেনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই। পান্থপথ কারওয়ান বাজার ফার্মগেট এলাকার ফুটপাতে অনেক দোকান খুলেছে।

দোকানদার বাসার জানান, সকালের দিকে দোকান খোলেন। তবে পুলিশ এসে ঝামেলা করে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর ফাঁকে ফাঁকে কিছু বেচাকেনা করা হয়। তবে কাস্টমার কম থাকায় আগের চেয়ে বিক্রি অনেক কম।

এদিকে আমিনবাজার, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড়, কলেজগেট, কলাবাগান, এলাকার পরিবহন কোম্পানিগুলো বুধবার থেকে বাস চালানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। কল্যাণপুর এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে গতকাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে। গাবতলী আমিনবাজার এলাকার পরিবহন কোম্পানি গ্যারেজ এবং টার্মিনালে বাসগুলো ধোয়া-মোছার পাশাপাশি মেরামতের কাজ চলছে।

আজিজ নামের এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, মাত্র একদিন পর থেকেই তো রাস্তায় গাড়ি চলাচল শুরু হবে। তাই গাড়ির টুকটাক কিছু কাজ শেষে সড়কে চলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর কাউন্টার খুলেছে। তবে লোকজনের একেবারে ভিড় নেই।

পরিবহনকর্মী বাবুল জানান, ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তাই কাউন্টার খুলে বাসের টিকিট বিক্রি করা হবে। তবে এখনো কাস্টমারের দেখা নেই। সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করা হবে। অর্ধেক আসনে টিকিট ছাড়া হবে।