আগস্টের মধ্যে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড বিতরণ

প্রকাশিত : জুন ২৬, ২০২২ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশিত ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ১৩ টি জেলার ৩৭ হাজার ৯১ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড বিতরণ করা হবে। জেলাগুলো হচ্ছে: গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা , বাগেরহাট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নড়াইল এবং গাজীপুর। বাকি জেলাগুলোর প্রিন্টিং কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে বাকি সকলের কাছে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড বিতরণ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী রবিবার ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড, চিকিৎসা সেবা প্রদান, সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বুকলেটের মোড়ক উন্মোচন এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শহিদ, যুদ্ধাহত এবং বীরাঙ্গনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর নেয়া পদক্ষেপগুলো আজও সদ্যস্বাধীন হওয়া দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কোণঠাসা হয়ে পড়েন, এমনকি তাঁরা স্বাধীনতাবিরোধীদের ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতে পারতেন না। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ও আদর্শের উত্তরাধিকার দেশরত্ন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করেন। মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান, আবাসন নির্মাণ, চিকিৎসা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তৃণমূল পর্যন্ত বাস্তবায়নসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সকল প্রকার কল্যাণ নিশ্চিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতাল এবং ঢাকার ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে ১৩ কোটি পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। হাসপাতালসমূহ অতিরিক্ত অর্থ চাহিদা দিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা নীতিমালা অনুযায়ী সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শীঘ্রই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে মহামান্য আদালতে রিট থাকায় নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এখন নির্বাচনের সমস্ত বাধা দূর হয়েছে । সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত আছে। নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন দ্রুতই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এসময় অন্যদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব), রঞ্জিত কুমার দাসসহ মন্ত্রণালয় এবং সংস্থা ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।