পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সাথে মার্কিন এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সাক্ষাৎ

প্রকাশিত : আগস্ট ৮, ২০২২ , ১১:০৭ অপরাহ্ণ

পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন-এর সাথে সোমবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অভ্ স্টেটের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফর ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন এফেয়ার্স Ambassador Michele J. Sison সাক্ষাৎ করেন। ঢাকায় সফররত মিশেল জে. সিসন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে পররাষ্ট্র সচিবকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক স্বার্থসম্পর্কিত বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সফররত এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও পররাষ্ট্র সচিব বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে উভয় দেশের যৌথ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়সমূহ, বিশেষ করে, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্পর্কিত বিষয়াবলি, যেমন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশ্বস্বাস্হ্য খাতে সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত সিসন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (Forcibly Displaced Myanmar Nationals- FDMNs) প্রতি বাংলাদেশের মানবিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানান যে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে অবিলম্বে নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত সিসন দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শান্তিরক্ষা মিশনসমূহে বাংলাদেশের অবদান, বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। তাঁরা বহুপাক্ষিক ফোরামসমূহে আসন্ন নির্বাচনগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। এর আগে এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিশেল জে. সিসন তাঁর প্রতিনিধিদলকে সাথে নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন । সভায় শান্তিরক্ষা মিশন, খাদ্য নিরাপত্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের প্রত্যাবর্তন, জি-৭৭, জাতিসংঘের এসকাপ (UN-ESCAP)-এ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর বিকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ্ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) কর্তৃক আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে উক্ত প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।