চা শ্রমিকদের মজুরী সমাধান না হওয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্বেগ

প্রকাশিত : আগস্ট ২৬, ২০২২ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ

ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি চা শ্রমিকদের দাবীকৃত মজুরী সমাধান না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, আজ ১৪ দিন ধরে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এই শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবি তুলেছেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বার্তা দিয়ে বর্তমান প্রাপ্ত মজুরী ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা মজুরী করার ঘোষণা দেয়, যা শ্রমিকরা মেনে নেয়নি। অন্যদিকে চা বাগান মালিকেরা বাসস্থান, আলো, পানি, চিকিৎসা-সুবিধা, অবসর ভাতা বা ভবিষ্যৎ তহবিল, বাসাবাড়িতে উৎপাদিত ফলমূল, গৃহায়নের সুবিধাকে দৈনিক মজুরির সঙ্গে যুক্ত করে যে যুক্তি দেখাচ্ছেন তা শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, বর্তমানে চা শ্রমিকদের যে মজুরি, বিদ্যমান উচ্চমূল্যের বাজারে কখনই তা জীবন-যাপনের উপযোগী মজুরি হতে পারে না। বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে ব্রিটিশ শাসিত ঔপনিবেশিক নীতিতেই চা বাগানগুলো পরিচালিত হচ্ছে, যা কখনই মানবিক হতে পারে না। একজন শ্রমিক যে হারে মজুরী পাচ্ছেন, তা দিয়ে শ্রমিক ও তার নির্ভরশীল পরিবারের ভরণপোষণ করা যায় না। বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রায় ২শ বছর আগে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পের শ্রমিকরা এখনও মানবেতর শোষণের শিকার হচ্ছে, যা অবসান হওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের সকল প্রকার শোষণ থেকে মুক্তির জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে-শ্রমিকের মৌলিক প্রয়োজনের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। বাগান শ্রমিকদের ও তার পরিবার-পরিজন প্রয়োজনীয় খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা সভ্যসমাজে কাম্য হতে পারে না, এই বৈষম্য দূর করতে হবে। বিবৃতিতে তারা আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে যে সভা করবেন তা থেকে অবশ্যই মজুরী বিষয়ে একটি যৌক্তিক সমাধানে উপনীত হবেন। এবং শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তাদের মজুরীর বৃদ্ধির ঘোষণা দিবেন যা নিকট অতীতে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য করেছেন। একই সঙ্গে তারা চা বাগানের শ্রমিকদের ৩’শ টাকা মজুরির যে দাবি,বাগান মালিকদের তা মেনে নেয়ার জন্য আহবান জানান এবং বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি সমন্বয়ের স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।