ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়েলারি সমিতির সভাপতির উপর অনাস্থা

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়েলারি সমিতির মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান নেওয়ায় সমিতির মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সম্প্রতি একটি পক্ষ বর্তমান সভাপতির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করলে এ দ্বন্দ্ব এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এদিকে পূর্বের কমিটি সমিতির আয়-ব্যয়ের পূর্ণা-ঙ্গ হিসাব বর্তমান কমিটিকে বুঝিয়ে না দিয়ে টাল-বাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি খোকন রায়। তার অভিযোগ পূর্বের কমিটি ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে সমিতি পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি সাধারণ সভায় খোকন রায়কে সভাপতি ও মো: রুহুল আমিনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করে, যার মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়। এদিকে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর পূর্বের কমিটির নিকট সমিতির বিগত ৬ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলেও তা দিতে গড়িমসি করে পূর্বের কমিটির কোষাধ্যক্ষ খোয়াজা গিনি হাউজের সত্ত্বাধিকারী মো: চঞ্চল বলে দাবি সভাপতির। সম্প্রতি তারা বর্তমান সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির নিকট সেই অনাস্থার কপি প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন একটি পক্ষ।কিন্তু কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় কিছুদিন পূর্বে রংপুরে আঞ্চলিক মিটিংয়ে বর্তমান সভাপতি যোগ দেওয়ায় আরেকটি পক্ষ এর প্রতিবাদ জানান।তবে কি কারণে বর্তমান সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন বিপরীত পক্ষ এবং কেনইবা অনাস্থা, আবার কোন প্রক্রিয়ায় অনাস্থা জানানো হলো এর কিছুই জানেন না বর্তমান সভাপতি ও হ্যাপি জুয়েলার্স এর স্বত্বাধিকারী খোকন রায়। এদিকে সভাপতিকে না জানিয়ে গোপনে রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো: সোহেলকে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়েলারি সমিতির নতুন অফিস উদ্বোধনের চেষ্টা করা হলে সভাপতির হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে যায়।এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জুয়েলারি সমিতির সভাপতি খোকন রায় এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি সংগঠন দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলে। সেখানে বিভিন্ন সময় সদস্যদের দেয়া অনুদান জমা পড়ে এবং তা কোথায় খরচ করা হয়েছে এর কোনও হিসেব রাখা হয়নি।আমাকে যখন ২০২১ সালে সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তখন আমি এ বিষয়টি হাউজে উপস্থাপনা করি। আর সে থেকেই একটি পক্ষ আমার সাথে বিরোধিতা করে আসছে।আমার প্রশ্ন তারা যদি আমার উপর অনাস্থা জ্ঞাপন করে তাকে তবে তা প্রকাশ্যে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে হতে হবে।কিন্তু তা না করে গুটি কয়েক সদস্যের যোগসাজসে অনাস্থা জ্ঞাপন মোটেও আইনি নয়।তাছাড়া আমার জানা মতে যাদের কাছ থেকে অনাস্থার জন্য স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে তারা জানেই না, কি কারণে এ স্বাক্ষর।তাদের বলা হয়েছে সংগঠনের মিটিং আছে। তিনি এহেন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দাসহ এর ন্যায় বিচার আশা করেন। এ বিষয়ে জানতে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে অনাস্থার বিষয়ে আমি সঠিক জানি না, আমি সে সময় ভারতে ছিলাম, আমাদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হানিফ সবকিছু বলতে পারবেন। ভারত থেকে এসে কি জানতে পেরেছেন-এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, আসলে সেই সময় তাদের (সভাপতি-যুগ্ম সা: সম্পাদক) মধ্যে কিসের উকিল নোটিশ চালাচালি হইছে না হইছে এরকম শুনেছি, এখন পর্যন্ত কিছু জানি না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মো: সোহেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসলে ঠাকুরগাঁও জুয়েলারি সমিতির কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষ অবস্থান নিয়েছে।একটি পক্ষ সভাপতির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে, তবে সেটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি। আমরা সংগঠনে ঝগড়া-বিবাদ চাই না, নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়িও চাই না। আগামী মাসের ৭-৯ তারিখের মধ্যে আমাদের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিরা গিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে এর সুষ্ঠু সমাধান করে দিবেন-আশা করি এরপর আর কোনও দ্বন্দ্ব থাকবে না।