কমরেড অমল সেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৭, ২০২৩ , ৫:৫১ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা পুরুষ, ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড অমল সেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। কমরেড অমল সেন ব্রিটিশ ভারতে ১৯১৪ সালে বর্তমানের নড়াইল জেলার আফরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নবম শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হয়ে ‘অনুশীলন’ সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৯৩৩ সনে খুলনার বিএল কলেজে রসায়ন শাস্ত্রে পড়া অবস্থায় অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ঐ বছরই এই অঞ্চলের জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। নিজের পিতার জমিদারির বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। ধারাবাহিকভাবেই ঐ অঞ্চলে আন্দোলন চলতে থাকে। ১৯৩৫ সনে তিনি অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৬ ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তী পুরুষ পরিচিতি লাভ করেন সকলের ‘বাবুদা’ হিসেবে। ১৯৪৮ সনে যশোর পার্টির সম্পাদক নিযুক্ত হন। সদ্য ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর পাকিস্তানী মুসলিম লীগ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং ১৯৫৬ সন পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। দুই বছরের জন্য বাইরে থাকলেও আবারো ১৯৫৮ সনে গ্রেফতার হয়ে ১৯৬৯ সন পর্যন্ত জেলে আটক থাকেন তিনি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তি লাভ করলেও আবারও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে জনগণ জেল ভেঙ্গে তাঁকে মুক্ত করেন। আজীবন বিপ্লবী, অকৃতদার, নিঃস্বার্থ বিপ্লবী কমরেড অমল সেন ১৯৭১ এ জেলমুক্ত হয়ে ভারতে চলে যান এবং তখন বিভ্রান্ত বাম আন্দোলনের কর্মীদের সংগঠিত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে ‘খোলা চিঠি’ দিয়ে আহ্বান জানান। ভারতে বসেই তিনি এদেশের বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ করার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালান এবং ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি’ গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনে পিকিং-মস্কো ধারার বিপরীতে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন এবং তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড অমল সেনের হাতে গড়া লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নাম ধারণ করে। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। কমরেড অমল সেন ২০০৩ সালে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক জীবনে কমরেড অমল সেন তাঁর সময়ে বাম-ডান বিচ্যুতির বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট কর্মীদের সমাজ বিপ্লবের দিশা দেখিয়েছেন তাঁর ‘জনগণের বিকল্প শক্তি’ নামক চিন্তাসূত্র দিয়ে। সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়ের পূর্বেই ১৯৭৭ সনে তিনি তাঁর মূল্যবান চিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন ‘বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমস্যা প্রসঙ্গে’। পরবর্তীতে সেই চিন্তার অনেক যথার্থতাও খুঁজে পাওয়া যায়। কমিউনিস্ট পার্টি এবং জীবনবোধের অনুশীলনে ‘কমিউনিস্ট জীবন ও আচরণ রীতি প্রসঙ্গে’ বইটি এদেশের কমিউনিস্টদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য পুস্তক। ‘নড়াইল তেভাগা আন্দোলনের সমীক্ষা’ নামক প্রবন্ধেও তেভাগা আন্দোলনের মর্ম-বস্তু তুলে ধরেছেন। কমরেড অমল সেন এর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড কামরূল আহসান, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড তপন দত্ত, কমরেড করম আলী, কমরেড দীপংকর সাহা দিপু, কমরেড আমিরুল হক আমিন, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড এড. ফিরোজ আলম, কমরেড এড. জোবায়দা পারভিন, কমরেড এড. টিপু সুলতান কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার, প্রমুখ। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার এমপি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এড. ইসমাইল হোসেন, আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা জেলা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বিজয়নগর উপজেলা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ আইনজীবী সংসদ, জাতীয় কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, সাপ্তাহিক নতুন কথা, কেন্দ্রীয় অফিস, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ ৪র্থ শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতিসহ বাংলাদেশের প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক বিভিন্ন শ্রেণী গণ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।