বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০২৩ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

আশরাফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র ও আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদেরকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও তার ছেলে মো. আহসান উদ্দীন সরকার। গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পুরাতন বাজারস্থ নিজ বাসভবনে প্রার্থীর পক্ষে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এসময় আপেল প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. আহসান উদ্দীন সরকার বলেন, গত ২২ জানুয়ারি রবিবার ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়গাছি বাজারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ আপেল প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন এবং ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখান।
তিনি আরও বলেন, গত সোমবার (২৩ জানুয়ারি) গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের আপেল প্রতীকের কর্মী মো. হাবিবুল্লাহকে আওয়ামীলীগের কর্মী মেহেদী, আনারুল, মিলন অতর্কিত হামলা করে। স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এতে আপেল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা নিরাপত্তা-হীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে মো. আহসান উদ্দীন সরকার বলেন, গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের আড্ডা বাজার ও জিনারপুর বাজারে এবং রাধানগর ইউনিয়নের ডুবার মোড়ে আপেল প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে ও পোস্টার নামিয়ে ফেলেছে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউর রহমানের সমর্থকরা। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এসব বিষয় নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আগামী ০১ ফেব্রুয়ারী একটি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এবিষয়ে শীঘ্রই আমি সংবাদ সম্মেলন করে আমার বক্তব্য দিবো। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযোগের কপি এখনও হাতে পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুহা. জিয়াউর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের নাবীউল ইসলাম ও আ.লীগের বিদ্রোহী খুরশিদ আলম বাচ্চু, জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাম মোস্তফা। সংসদীয় আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম পদত্যাগ করায় আসন ২টি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ০৫ জানুয়ারি, বাছাই করা হয় ০৮ জানুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৫ জানুয়ারি ও ১৬ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ হয়। আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহন করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট) আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন। ১৮০টি ভোট কেন্দ্রের ১২৩০টি ভোট কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।