Print

Broadcasting News Corporation

গাছে গাছে ঝুলবে সব জাতের পাখির জন্য নিরাপদ মাটির হাড়ি

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২, ২০২২ , ৪:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২২, ৪:০৫ অপরাহ্ণ

ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন


🔊
খবরটি শুনুন
অডিও শুনতে বাটনে ক্লিক করুন

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: চারিদিকে যখন পাখি শিকারসহ নানাবিধ অরাজক কর্মকাণ্ড চলছে, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন বিষ যোগ হচ্ছে মাটিতে আর তার প্রভাবে প্রকৃতি ও কৃষি বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই হরিণাকুন্ডুর প্রত্যন্ত গ্রামে পাখির অভয়াশ্রম সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে উঠছে। সরকারি কয়েকটি বিভাগের কর্মকর্তারা এতে সহযোগিতা করছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন মহতি এ কাজে। হরিণাকুন্ডুর কাপাসহাটিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে শুরু হয়েছে এ কর্মযজ্ঞ। হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারিদহ বাজারে অবস্থিত হিড বাংলাদেশ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেল কারো গেঞ্জি পরা ২৪-২৫জন স্কুলছাত্র দাড়িয়ে আছে বিশেষভাবে তৈরি মাটির ভাঁড় বা পাত্র হাতে নিয়ে। তারা অপেক্ষায় আছে নির্দেশনা পেলেই ছুটে যাবে নির্ধারিত গ্রামে। স্কুলছাত্র লিংকন মিয়া, ইমরান হোসেন, আসিফ হোসেন, মিহাব আলি, সম্রাট ও লিমন হোসেন জানালো, মাটির তৈরি পাত্রগুলো তারা ঝুলিয়ে দেবে এলাকার গাছে গাছে। তারা জানালো, শাখারিদহ, বাসুদেবপুর, তালবাড়িয়া, চাঁদপুর এবং কণ্যাদহ গ্রামে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছে। ওইসব গ্রামের কোন মানুষ বা বহিরাগত যেন কোনপ্রকারে পাখি শিকার করতে না পারে যেজন্য তারা সজাগ থাকবে। পাশাপাশি গ্রামের সব মানুষ বিশেষ করে কোমল-মতি শিশুরা যেন পাখি শিকারের মত কোন কাজ না করে, সেজন্য তারা মায়েদের সাথে বসবে নিয়মিত। বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করাও তাদের কর্মসূচির অংশ। ওইসব গ্রামের নেতৃস্থানীয়রাও যাতে তাদের এ কাজে সহযোগিতা করেন, সেজন্য তাদের পরামর্শ নিয়েই চলবে সার্বিক কর্মকাণ্ড জানালো শিক্ষার্থীরা। এলাকার বয়স্ক কৃষক আব্দুর রশিদ ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানালেন, পাখির নিরাপদ আশ্রয় সৃষ্টির এ মহতি উদ্যোগের কথা এলাকার মানুষের মুখেমুখে, সবাই এতে খুশি এজন্য যে, একসময় পাখির কলকাকলি মুখরিত গ্রামবাংলা এখন প্রায় পাখি-হীন। ঘুঘু, টিয়ে, হরিয়ল, ফিঙে, কাকাতুয়া, কানাকুয়া ইত্যাদি পাখির সৌন্দর্যে একসময় মন ভারে যেত, এখন তা প্রায় অতীত। যদি সেসব আবার ফিরে আসে, প্রাণ ফিরে পাবে রবি ঠাকুর, কাজি নজরুল আর শেখ মুজিবের বাংলা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ জেলা উপপরিচালক আব্দুল লতিফ শেখের সাথে কথা হয় উদ্বোধনী-স্থলে। তিনি এসেছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে। জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির উপ-পরিচালক ইসমাইল হোসেনও এসেছিলেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে। তারা জানালেন, গাছে-গাছে বসা পাখি একদিকে যেমন ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল-রক্ষায় ভ’মিকা রাখবে, পাখির মল-মূত্রও জৈবসার যোগ করবে মাটিতে। ফলে কমবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ও খরচ, মাটিতে জৈবপদার্থ কিছুটা হলেও যোগ হওয়ায় বাড়বে উর্বরতা। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ক্রমশ বিষমুক্ত ফসল পাবার একটা উদ্যোগ সৃষ্টি হলো প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে। সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিড বাংলাদেশ-র প্রধান নির্বাহী জিল্লুর রহমান জানালেন, তারা এলাকার মাত্র পাঁচটি গ্রামে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছেন যা ক্রমশ সম্প্রসারিত হবে। শতশত শিক্ষার্থী এ কাজে সম্পৃক্ত হবে, তাদের মধ্যে পাখি ও প্রকৃতি বিষয়ে বেশি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এতে তারাও বেশি মানবিক হবে। একসময় পুরো দেশটা পাখিতে আবার ভরে যাবে, বাঁচবে প্রকৃতি ও পরিবেশ। কৃষি সম্প্রসারণ, সমাজসেবা, সমবায়, বন অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তিনি কৃষি ও পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি কর্মসূচি শত প্রতিকূলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন।

Post Views: 574

প্রধান বার্তা সম্পাদক ও চেয়ারম্যান: মো. আতিকুর রহমান
ভাইস-চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর: তানভীর আমের হোসেন (নুমান)
প্রধান সম্পাদক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো. রফিকুল ইসলাম
রিপোর্টিং ও প্রধান কার্যালয়: নাহার ম্যানশন (সি-৯), ১৫০ মতিঝিল সি/এ, ঢাকা – ১০০০। বাংলাদেশ।
ফোন: +88 09611-378696 , ইমেইল: [email protected]

© ২০২৪ ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত