মানুষ সম্পর্ক-চুক্তির শুরুতেই মানুষকে, পরিস্থিতিকে অনুকুলে নিতে চায়। দুর্বলরা বকাঝকা আরম্ভ করে আর চতুররা ভেলকিবাজির আশ্রয় নেয়। তবে বুদ্ধিমানেরা মানুষ বুঝতে চায়, পরিস্থিতি পড়ে যায়! বাসর রাতে বিড়াল মারার গল্প যুগযুগান্তর ধরে প্রচলিত। তবে এই গল্প শুধু স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেই নয় বরং জীবনের অঙ্গে অঙ্গে চর্চা চলে। বস অধীনকে, শিক্ষক ছাত্রকে, রাজনীতিবিদ জনতাকে, চাকরিজীবী সেবাগ্রহীতাকে, পুরুষ নারীকে, ধনী গরীবকে, অতি চালাক কম চালাককে অধীনে নিতে মানবাস্ত্রগুলো শানিত করে। একসময় বুদ্ধি ভোঁতা হয়ে যায়, শিক্ষা পথ হারায়। তখন আদিম বর্বরতাই মানুষকে কব্জা করার মোক্ষম অস্ত্রের ভূমিকা লয়।
মান-অভিমানেও কেউ কেউ জিতে যায়। অভিনয়ের সুনিপুণতাতেও কারো কারো প্রভাব বিস্তারের পথ সুগম হয়। মানুষের ওপর কর্তৃত্ববাদী হতে গিয়ে মানুষ যেসকল অভিযান চালায় সেসবের অনেকটাই মানুষ হিসেবে অপরের থেকে কাম্য নয়। কাউকে লজ্জায় ফেলে তার মজ্জা শুষে খেতে যাদের লজ্জা হয় না-সেই সংখ্যাটাই সমাজে বেশি। এরাই প্রভাববিস্তারকারী। সমাজ-সংসারের সিংহভাগ ক্ষমতা এদের কুক্ষিগত। এরা অধীনদের নিরবে নির্যাতন করে। জিহ্বা দিয়ে অপরের মনে দাগ কটে দেয়। যাদেরকে গ্রাস করতে পারে না তাদের নামে সর্ববিধ দুর্নাম রটায়। ছোটখাটো যে কোন ভুলত্রুটিকে মহাপাপের তকমা দিয়ে কানে কানে প্রচার চালায়।
বাসে ওঠেই সুপারভাইজারকে ধমকানি, হোটেলে ঢুকেই ওয়েটারকে ঠাটানি, ক্লাসরুমে প্রবেশ করেই শিক্ষার্থীদেরকে পিটুনি এবং অফিসে ঢুকেই অধীনদের ঝাঁকুনি দিয়ে বুঝিয়ে দেন-তিনি একটা কিছু, মস্ত রিপু! এরাই ঘরে ফিরে সন্তানকে বকুনি আর স্ত্রীকে ঝাঁঝালো ভাষায় হুকুম দিতে ওস্তাদ! তবে বরাত উল্টে গেলে অনেক বাঘ-সিংহকে মিউ মিউ করতে করতে জীবন বের হয়ে যায়, যৌবন চ্যাপ্টা হয়! কত মহারাজ হুকুমের কাজ সামলাতে সামলাতে জীবনে তেজপাতার ঘ্রাণ পায়!
অযথা ধমক-চমক, মানুষ হিসেবে মানুষকে বকুনি, কাজ হিসেবে যতোটা না কাজের তার অধিক অকাজের! ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছু জয়করা সম্ভব। চোখে চোখ রাখতে পারলে, মতিগতি ধরতে পারলে কত কাজ যে আদায় করা সম্ভব-তা বার্ষিক লাভ, জীবনের মোড় জানিয়ে দেবে৷ ইনিয়ে-বিনিয়ে হাঁড়ির খবার জানাও মন্দ নয়, তবু অযথা মুখোমুখি-মোকাবেলা নয়। মানুষ হিসেবে যে কাজ বুদ্ধিতে হয়, যে কাজ কৌশলে হয়, সে কাজে লঙ্কাকান্ড বাঁধানো অর্থহীন। এতে ঋণ বাড়ে। শোষিতের কাছে শাসকের, ছোটর কাছে বড়র, সমাজের পিছিয়ে থাকাদেন কাছে অগ্রগামীদের দায় বাড়ে!
কী করা উচিত! কোমল থাকুন। পরিস্থিতি বুঝুন। তৎক্ষনাৎ প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। তিক্ততা বাড়বে। অনেক সমস্যা অভিযোগ ছাড়াই ঘুচে যাবে। তাতে সমাজের গতিতে আপনার ১০টি কাজের মধ্যে ০৩/০৫টি’র ফল পক্ষে নাও যেতে পারে। কিছুটা সাময়িক ক্ষতিও হবে। তবে অযৌক্তিক কঠোর হলে ভবিষ্যত খোয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, কিছু কিছু পরাজয় জয়ের ধারাবাহিক ধারা সূচিত করে। যদি নরম স্বরে বোঝান, আদিম অস্ত্রগুলোর ব্যবহার কমাতে পারেন-তবে ভবিষ্যত সম্ভবনার পুরোটাই আপনাকে সেবা করবে। উজ্জ্বল আগামীর জন্য, মসৃণ ভবিষ্যতের জন্য, সুন্দর সম্পর্কের জন্যই সম্পর্কগুলোকে জটিল ও দূরত্বের না করে ফেলি! শত্রু আমার বন্ধু হোক এবং বন্ধু যেনো জীবন হয়!
রাজু আহমেদ, প্রাবন্ধিক।
[email protected]
প্রধান বার্তা সম্পাদক ও চেয়ারম্যান: মো. আতিকুর রহমান
ভাইস-চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর: তানভীর আমের হোসেন (নুমান)
প্রধান সম্পাদক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো. রফিকুল ইসলাম
রিপোর্টিং ও প্রধান কার্যালয়: নাহার ম্যানশন (সি-৯), ১৫০ মতিঝিল সি/এ, ঢাকা – ১০০০। বাংলাদেশ।
ফোন: +88 09611-378696 , ইমেইল: [email protected]
© ২০২৪ ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত