Print

Broadcasting News Corporation

প্রধান উপদেষ্টার সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ , ৯:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ৯:১১ অপরাহ্ণ

ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন


🔊
খবরটি শুনুন
অডিও শুনতে বাটনে ক্লিক করুন

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের সমাপ্তি চিহ্নিত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত পার্ক সুদানের আবেয়ি অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তি রক্ষীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি তার শুভকামনা ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিকল্পিত ব্যাপক অর্থনৈতিক চুক্তির (CEPA) বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়গুলো স্থান পায়।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস রাষ্ট্রদূত পার্ককে তার সফল কার্যকাল সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করার ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকার ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রামের কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে।

জবাবে রাষ্ট্রদূত পার্ক জানান, কোরিয়ান ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট স্যামসাং এখন বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী, যার মধ্যে দেশটিতে মোবাইল ফোন উৎপাদন বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ পরিকল্পিত ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (CEPA) নিয়ে নতুন দফা আলোচনার আশা করছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের—বিশেষ করে তৈরি পোশাকের—শুল্কমুক্ত প্রবেশের পথ প্রশস্ত করবে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাক আমদানির মাত্র পাঁচ শতাংশেরও কম বাংলাদেশ থেকে যায়, যেখানে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুটি দেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে কোরিয়ায় শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ভোগ করে।

দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা পরামর্শ দেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া যেন বাংলাদেশি যুবকদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিশেষ করে ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে।

বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক এবং সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

Post Views: 264

প্রধান বার্তা সম্পাদক ও চেয়ারম্যান: মো. আতিকুর রহমান
ভাইস-চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর: তানভীর আমের হোসেন (নুমান)
প্রধান সম্পাদক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক: মো. রফিকুল ইসলাম
রিপোর্টিং ও প্রধান কার্যালয়: নাহার ম্যানশন (সি-৯), ১৫০ মতিঝিল সি/এ, ঢাকা – ১০০০। বাংলাদেশ।
ফোন: +88 09611-378696 , ইমেইল: [email protected]

© ২০২৪ ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত