জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসে উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৭, ২০২২ , ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, ফাইল ছবি।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২২’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘নিশ্চিত করি শোভন কর্মপরিবেশ, সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ’ সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শোষিত, বঞ্চিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীনতার পর তৎকালীন প্রেক্ষাপটে তিনি পরিত্যক্ত কলকারখানাসমূহ জাতীয়করণ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে শ্রমনীতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ৫টিসহ মোট ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করেন। এ সকল পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কলকারখানাগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমজীবী মানুষের পেশাগত সুরক্ষা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের সকল খাতের শ্রমজীবী মানুষের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নানাবিধ কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’ এবং ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫’। আমি দেশে বিদ্যমান এ সকল আইন ও বিধিসমূহের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার রূপকল্প বাস্তবায়নে সরকার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে শ্রমিক ভাইবোনদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টি সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বজায় রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে শ্ৰমিক ও মালিকপক্ষকে অনুধাবন করতে হবে। বাংলাদেশে বিগত এক দশকে শিল্প-কারখানার সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অসংখ্য নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সাথে অভিযোজন করার লক্ষ্যে সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাবিধি অনুশীলনকে জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তোলা খুবই জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি সরকার, মালিক, শ্রমিকসহ সকল উন্নয়ন অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি। জয় বাংলা। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”