জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশিত : এপ্রিল ২৭, ২০২২ , ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২২’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটি উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এবারের জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিশ্চিত করি শোভন কর্মপরিবেশ, সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ’ সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। মহান স্বাধীনতার পরপরই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকারের বিষয় সুদৃঢ় করেন। জাতির পিতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর সদস্যপদ লাভ করে। তিনি ১৯৭৩ সালে পহেলা মে’কে ‘মে দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিকদের জন্য শোভন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃজনসহ তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন ও হালনাগাদ করেছে এবং ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা ২০১৩’ এবং ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫’ প্রণয়ন করেছে। আমাদের সরকারের উদ্যোগে রাজশাহীতে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণে কারখানার মালিক পক্ষকে অনুপ্রাণিত করতে ৮ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে ০৬টি শিল্প সেক্টরের ৩০টি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানকে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ প্রদান করা হয়েছে। শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত নিয়মিত শ্রম পরিদর্শন, শ্রম অভিযোগ নিষ্পত্তি, নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ, সেইফটি কমিটি গঠন, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন এবং মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল নির্মাণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের চিকিৎসায়, তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা কবলিত শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারকে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে নিয়মিতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা কোভিড-১৯ অতিমারিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক কলকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সরকারের সময়োচিত উদ্যোগের ফলে কর্মপরিবেশসহ শ্রমিকদের জীবনমানের উত্তরোত্তর উন্নতি হচ্ছে। মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীলগ্নে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। এ অনন্য অর্জনে দেশের মেহনতি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ জড়িয়ে আছে। শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে কলকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, ইনশাল্লাহ। শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিধি পালনকে জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তুলতে দিবসটির গৃহীত সকল কার্যক্রম তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কর্ম পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেবে-এ প্রত্যাশা করি। আমি, ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”