বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইদথ আমদানি করতে ভারতের আগ্রহ

প্রকাশিত : মে ২৫, ২০২২ , ১১:৩২ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:ভারতের আসাম রাজ্য বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইদথ নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। আসাম রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আসাম ইলেক্ট্রনিকস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড এই আগ্রহ ব্যক্ত করে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নিকট বুধবার তাঁর বাংলাদেশ সচিবালয়স্থ দপ্তরে কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে ইন্দো-বাংলা কাউন্সিলের সেক্রেটারি সুনীত কেপি কোম্পানির একটি আগ্রহ-পত্র পেশ করেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, সুনীত কেপিকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের ব্যান্ডউইদথ রপ্তানির বিষয়ে কোন সমস্যা নেই। এই ব্যাপারে আসামে ব্যান্ডউইদথ রপ্তানির প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সিলেটের তামাবিল থেকে মেঘালয়ের ডাউকি হয়ে গৌহাটিতে আসাম নিজস্ব ব্যয়ে ক্যাবল সংযোগ স্থাপন করেছে। এই জন্য বাংলাদেশ তামাবিল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে বিকল্প লাইন স্থাপন করবে বলে মন্ত্রী প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেন। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফরকালে আসাম বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইদথ আমদানির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সুনীত কেপি মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ইন্টারনেটকে ডিজিটাল বাংলাদেশের মহাসড়ক আখ্যায়িত করে দেশের মানুষের ডিজিটাল জীবনধারা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার গৃহীত কর্মসূচি তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এরই মাঝে ফাইভ-জি স্পেকট্রাম নিলাম করা হয়েছে এবং ফাইভ-জি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে দেশে মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস ব্যান্ডউইদথ ব্যবহৃত হতো এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ৮ লাখ। ২০২০ সালে কোভিড শুরুর প্রাক্কালে দেশে ১০০০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৪৪০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তেরো কোটিতে উন্নীত হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে নেটওয়ার্কের বর্ধিত চাহিদা মিটিয়ে সৌদি আরব, ভারত ও ভূটানে ব্রডব্যান্ড রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের কাজ শুরু করেছে। তৃতীয় সাবমেরিন সংযোগ সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত আরো প্রায় তেরো হাজার দুই শত জিবিপিএস ব্যান্ডউইদথ সংযুক্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সিমিউই ৪ এবং সিমিউই ৫ এর সক্ষমতা বাড়াচ্ছেন ও সাকুল্য ব্যান্ডউইদথ দিয়ে ২০৩০ সাল পযর্ন্ত চাহিদা মেটানো যাবে বলে জানান।