শেখ হাসিনা অর্জন ও উন্নয়নের শেষ ঠিকানা

প্রকাশিত : জুন ১৩, ২০২২ , ৭:৩০ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে রাতদিন নিরলস-ভাবে কাজ করছে। তার অর্জন ও উন্নয়নের শেষ ঠিকানা। সে কারণেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। সোমবার রাজধানীর উত্তরায় ইনস্টিটিউট অব মডেলিং (আইডব্লিউএম) কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
এনামুল হক শামীম বলেন, উন্নত বাংলাদেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়তে ডেলটা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ মহা-পরিকল্পনার অধিকাংশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওপর। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দফতর এ মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলস-ভাবে কাজ করে চলছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়া। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দেশের অর্থনীতি আজ সমৃদ্ধ। চারদিকে বইছে উন্নয়নের জোয়ার। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য দেশ নির্মাণে সবাই কাজ করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে শতবর্ষী বাংলাদেশ ডেলটা প্লান-২১০০।
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য ‘বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান-২১০০’ গ্রহণ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সেরা উপহার। এ মহা-পরিকল্পনায় ২০৩০ সালে আমাদের কী অর্জন করতে হবে; ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে করণীয় এবং ২০৫০ সাল পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের পানিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বহু গুণে বেড়েছে এবং একই সঙ্গে কাজের গুণগত-মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সংস্থাসমূহের কার্যক্রমে গতিশীলতার সঞ্চার হয়েছে। আইডব্লিউএম’র গবেষণায় মাধ্যমে আমরা ভাল কাজ করতে সক্ষম হচ্ছি। আপনারা সঠিকভাবে কাজ করে বিশ্বমানের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের পানি এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আমাদের দেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। নানাবিধ উন্নয়ন ধারায় আমাদের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। সকল ক্ষেত্রে পানির সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আমাদের টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। উপমন্ত্রী শামীম বলেন, বর্তমান সরকার পানিসম্পদ উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা প্রদান করবে এবং পানির দূষণ কমাতে সক্ষম হবে। পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও তা ব্যবহারের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দফতরসমূহ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে নদী-ভাঙন রোধ, বন্যা ও কৃষি ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা বৃদ্ধিকরণ ও সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, আবু সালেহ খান, জহুরুল এইচ খান, এসএম মাহবুবু রহমান, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. সোহেল মাসুদ, সারোয়ার জাহান, আশরাফ আলী খান, সামিউন নবী, গৌতম চন্দ্র মৃধা প্রমুখ।