জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ও বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০২২ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ শনিবার ২৩ জুলাই ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ও বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক ২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জনপ্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের সৃজনশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রম উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়নে উৎসাহিতকরণ ও সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক ২০২২’ প্রদান করা হচ্ছে। আমি ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক ২০২২’ প্রাপ্ত সকল কর্মচারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
জনকল্যাণে সরকার গৃহীত নীতি-কৌশল প্রণয়নে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে দক্ষ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ এজন্য সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। জনগণ যাতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবাসহ সকল ন্যায্য অধিকার পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকার গৃহীত রূপকল্প-২০২১ এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবরূপ লাভ করেছে, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর ন্যায় মেগা প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। সর্বোপরি সরকারের সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে করোনা অতিমারির সময়েও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত স্বাভাবিক ধারায় ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। এ সকল অর্জনে জনপ্রশাসনের কর্মচারীগণ প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ২১০০ সালের মধ্যে বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একইসঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করে আগামী দিনের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। জনপ্রশাসনের কর্মচারীগণের সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সেবা প্রদানের মানসিকতার উপর এ সকল পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এর সম্ভাবনাসমূহ জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে নিজেদের সক্ষমতা উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগণ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীদিনে সরকারের সকল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে – এটাই সকলের প্রত্যাশা।
আমি ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।
জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”