মুজিব মানেই বাংলাদেশ: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০২২ , ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, একদল বিপদ্গামী বাঙালি দেশি-বিদেশি চক্রান্তে জড়িত হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন, ঘাতকেরা ভেবেছিল মুজিবকে হত্যা করলেই সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু ওরা বুঝতে পারেনি মুজিব মানেই বাংলাদেশ। একজন ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করা যায়, কিন্তু তার আদর্শ এবং স্বপ্নকে হত্যা করা যায় না। প্রতিমন্ত্রী সোমবার সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পরিবারের সদস্য সকল শহিদের আত্মার শান্তি কামনায় আলোচনা ও প্রার্থনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয়, সামজিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অসারতা বুঝতে পেরেছিলেন। সেজন্য তিনি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার মূলনীতি যুক্ত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি যে ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছেন, তারই সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ সুদৃঢ় করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ বিরোধী একটি গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে দেশের সম্প্রীতির চমৎকার পরিবেশ বিনষ্ট করতে চায়। আমরা কোনভাবেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেব না। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তাদের প্রতিহত করবোই। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব ডা. দিলীপ কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও প্রার্থনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শ্রী সুজিত রায় নন্দী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, প্রফেসর অসীম কুমার সরকার, জয়ন্ত কুমার দেব, বিশ্বনাথ সরকার দিপু ও অনিতা সরকার। অনুষ্ঠান শেষে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে ১৫ই আগস্টে ঘাতকের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যসহ সকলের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।