আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ , ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২২’ উপলক্ষ্যে আমি দেশের প্রবীণ ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। প্রবীণ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রবীণ ব্যক্তির সহনশীলতা (The Rcsilicnce of Older Persons in a Changing World)’- বৈশ্বিক বাস্তবতায় যথার্থ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সংবিধানে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করেন। সাংবিধানিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের জন্য ১৯৯৬ সালে প্রবীণ ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে বয়স্ক ভাতার প্রচলন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত বাস্তবমুখী নানাবিধ উদ্যোগের কারণে সামাজিক সূচকে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.৪ বছরে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে বেড়ে চলেছে প্রবীণ ব্যক্তির সংখ্যা। বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশের অধিক প্রবীণ। ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলস্বরূপ ইতোমধ্যে ২৬২টি উপজেলার শত ভাগ বয়স্ক ব্যক্তিকে ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলার শত ভাগ প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে বয়স্ক ভাতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৫৭ লক্ষ ১ হাজার জন প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রবীণদের সুরক্ষায় ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ ও জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং প্রবীণদের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, সরকারি স্থাপনা ও যানবাহনকে প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। সম্প্রতি আইএলও কর্তৃক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল প্রটেকশন রিপোর্ট ২০২১-২২’ অনুযায়ী ২৮.৪ শতাংশ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাভুক্ত করে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যার মধ্যে প্রবীণ জনগোষ্ঠীও অন্তর্ভুক্ত। প্রবীণদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে। সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের কল্যাণে এগিয়ে এলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। করোনায় প্রবীণদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মারাত্মক হারে বেড়েছে। আমাদের প্রবীণব্যক্তিগণ এ বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় অসীম সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। আসুন, আমরা সবাই প্রবীণদের সুরক্ষিত রাখতে একসঙ্গে কাজ করি ।
আমি ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২২’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”