জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৩, ২০২২ , ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বৃহস্পতিবার কাজাখস্তানের আস্তানায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সিকা শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের নীতির আলোকে জলবায়ু অর্থায়নের অঙ্গীকার অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের ওপর গুরত্ব আরোপ করেছেন। আগামী মাসে মিশরের শার্ম-আল-শেখ-এ অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের পূর্বে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তিনি এই আহ্বান জানান। রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে, জ্বালানি ঘাটতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে ড. মোমেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি এসময় সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং বিরোধের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। শান্তির সংস্কৃতি সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি নিরস্ত্রীকরণের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনরায় তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জনসহ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকার ‘whole-of-government’ এবং ‘whole-of-society’ ধারনার ভিত্তিতে অংশগ্রহনমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে মর্মে ড. মোমেন সিকা নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সিকা নেতাদের সমর্থন কামনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন আরো বলেন, মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে মধ্যে নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিকা-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোকে অভিনন্দন জানান এবং সিকার আওতায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সম্মেলনে সিকা তহবিল, তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং জাতিসংঘ গৃহীত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কৌশল বাস্তবায়নে আস্থাবৃদ্ধিমূলক কর্ম-পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এছাড়া ‘Astana Statement of Transformation’, শীর্ষক ঘোষণায় সিকাকে ফোরাম থেকে এশিয়া অঞ্চলের একটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সংগঠনে উন্নীতকরণের প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ ঐকমত্য পোষণ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্বরেখায় বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr. Abdullahtif bin Rashid Al-Zayani, কাজাকস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্র মন্ত্রী Mukhtar Tileuberdi এবং কিরগিজস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী Kulubaev Zheenbek Moldokanovich-এর সাথে পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন।