স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে থাইল্যান্ডে ২৭টি দেশের আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সভা

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৪, ২০২২ , ৮:০৫ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্য্যণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সোমবার থাইল্যান্ডের পাতায়া এক্সিভিশন এন্ড কনভেনশন হলে PPD (Partners in Population and Development) কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধি পর্যায়ের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক ১৯তম আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্য্যণ মন্ত্রী জাহিদ মালেককে এই সভায় সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সভায় জিম্বাবুয়ের উপ-রাষ্ট্রপতি Dr. C. Chiwenga, ভারতের মিনিস্ট্রি অভ্ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার-এর ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ ডিভিশনের অ্যাডভাইজার Dr. S K Sikdar, দ্যা রয়েল থাই গভর্নমেন্টের মিনিস্ট্রি অভ্ পাবলিক হেলথের ডিপার্টমেন্ট অভ্ হেলথের মহাপরিচালক Dr. Suwannachai Wattanayingcharoenchai, ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল পপুলেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং বোর্ডের চেয়ারপার্সন Dr. Hasto Wardoyo, চীনের ভাইস চেয়ার এবং ভাইস মিনিস্টার ন্যাশনাল হেলথ কমিশন Dr. Yu Xuejun, ইথিওপিয়ার স্টেট মিনিস্টার Dr. Dereje Dhuguma, ডিপার্টমেন্ট অভ্ সোস্যাল ডেভেলপমেন্টের পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চিফ ডাইরেক্টর Jacques van Zuydam -সহ ২৭টি দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিবর্গ অংশ নেন। সভায় পিপিডি-এর ২৭টি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের ও প্রতিনিধি পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ দেশের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, শিশুমৃত্যুর হার ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা, শিশু শ্রম বন্ধ করা, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যহানিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিগণ এসকল বিষয়ে একমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্র প্রতিনিধিগণ তাঁদের নিজ নিজ দেশের স্বাস্থ্য প্রজনন সেবার উন্নয়ন চিত্র ও সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, করোনা পরিস্থিতি, বিনামূল্যে হাসপাতাল সেবা কার্যক্রমসহ স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ২০২২ সালে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২২ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সাল থেকে বর্তমানে প্রায় ৫০ ভাগ শিশু মৃত্যুহার কমাতে সক্ষম হয়েছে । বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৪ ভাগ নারী (১৫-৪৯ বছর বয়সী) গর্ভনিরোধ পদ্ধতিসেবা সরকারিভাবে বিনামূল্যে পাচ্ছে। মাতৃমৃত্যুর হার ২০০৯ সালে প্রতি লাখে ২৫৯ জন থেকে কমিয়ে এখন ১৬৩ জন হয়েছে। শিশুদের সময়মতো ভ্যাকসিন প্রদান করে বাংলাদেশ বিশে^র দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্যাভী কর্তৃক ভ্যাক্সিন হিরো পুরস্কার পেয়েছেন। প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নের স্বীকৃত হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে জাতিসংঘের এমডিজি পুরস্কার, ২০১১ সালে ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট নামে সাউথ-সাউথ পুরস্কার পাওয়াসহ নানা পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন থেকে গোটা বিশে^র স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।” মন্ত্রী এ সময় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন। যুদ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্ব বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এবং এর ফলে বিশ^ব্যাপী স্বাস্থ্য সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সভায় তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এগুলো নিয়ে বিশ^ নেতৃবৃন্দের সবাইকে ঐকমত্যেরভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২৭টি দেশের আন্তর্জাতিক সংগঠন পিপিডি এর প্রধান কার্যালয়টি বর্তমানে বাংলাদেশের রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থায়ীভাবে কাজ করে যাচ্ছে।