ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০২২ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ নভেম্বর ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“অগ্নি দুর্ঘটনাসহ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সকল দুর্যোগ-দুর্ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণকে আরো সচেতন করার লক্ষ্যে ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২২’ উদ্‌যাপিত হবে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর একটি জরুরি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকল দুর্যোগে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সবার আগে তারা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এই প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন সদস্য শহিদ হয়েছেন। তাদের আত্মবিসর্জনের এ ঘটনাই প্রমাণ করে, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যগণ কতটা নিবেদিত। আমি এই ১৩ জন বীর অগ্নি সেনাসহ বিভিন্ন সময় দেশের জান-মাল রক্ষা করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেওয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সকল সদস্যের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। বর্তমান সরকার এই ১৩ বীর অগ্নি যোদ্ধাকে ‘অগ্নিবীর’ খেতাবে ভূষিত করেছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করবো। ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালের পর থেকে আমরা ২৮৬টি নতুন ফায়ার স্টেশন চালু করেছি। ২০০৯ সালের আগে দেশে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ছিল ২০৪টি। এ সংখ্যাকে আমরা ইতোমধ্যে ৪৯০টিতে উন্নীত করেছি। আরো বেশ কিছু ফায়ার স্টেশন খুব শীঘ্রই চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা এই বাহিনীর সদস্যদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বমানের একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কর্মদক্ষতা বিশ্বমানে উন্নীত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স- এর কর্মীরা সাহস, সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন এই আমার প্রত্যাশা।
আমি ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২২’-এর সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”