বিএনপি তাদের নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকাতে পারবে না

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৩ , ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, ‘বিএনপির দলীয় নির্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগকারী উকিল আবদুস সাত্তার বিএনপি থেকে বের হয়ে সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এটিই প্রমাণিত হচ্ছে যে, বিএনপির সম্মুখ সারির অনেক নেতাই নির্বাচনমুখী, তারা নির্বাচন করতে চায়।’ মন্ত্রী বলেন, ‘এটি আরো ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি যদি ভবিষ্যতে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়ও, তাদের নেতারা ঠিকই নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে তাদের নেতাদের ঠেকানো যাবে না। নির্বাচনে তারা অংশ নেবেনই।’ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত আসে সমুদ্রের ওপার থেকে। বাংলাদেশের বাস্তবতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের “সেই” নেতার কোনো ধারণা নেই। তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের বাইরে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সংসদ থেকে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যের পদত্যাগ দলটির প্রচণ্ড অদূরদর্শী একটি সিদ্ধান্ত ছিল।’ ‘আর অনেক বিএনপি নেতা মনে করেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তা প্রতিহত করার অপচেষ্টা সম্পূর্ণ ভুল ছিল’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনেও তারা অংশ নেবে, কি নেবে না- এমন দোলাচাল না রেখে, আংশিক নয়, পূর্ণশক্তি নিয়ে নির্বাচন করা প্রয়োজন ছিল। এবারো তাদের ছয় এমপির পদত্যাগ, তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে সম্মুখ সারির নেতাদের ধারণা। এই পদত্যাগ বিএনপির জন্য শুভ হয়নি। আমিও ব্যক্তিগতভাবে তাই মনে করি।’ গাইবান্ধা উপনির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গাইবান্ধা উপনির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর ও সফল হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনও দাবি করছে। আমরাও দেখলাম অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। প্রচণ্ড শীত আর একবার ভোট দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে এর আগে নির্বাচন যদি স্থগিত করা না হতো, তখনো নৌকার প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করত।’

‘বিএনপির রাজনীতিই সন্ত্রাসনির্ভর’
আওয়ামী লীগের একটি অংশ, রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়- বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এমন মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান বলেন, ‘আসলে সন্ত্রাসের রাজত্ব বিএনপিই কায়েম করেছে। তারা সন্ত্রাসের ওপর ভর করেই রাজনীতি করে। এতদিন তারা বলত যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। এখন আবার বলছে একটি অংশ!’ মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছে, দেশ পরিচালনা করছে। জনগণ যতদিন চাইবে, ততদিনই আমরা দেশ পরিচালনা করব। জনগণ না চাইলে একদিনও দেশ পরিচালনা করব না। বিএনপিই সবসময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়।’