লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ , ৫:০১ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার ১৫ জানুয়ারি ‘লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব ২০২৩’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন মাসব্যাপী ‘লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব ২০২৩’ আয়োজন করছে জেনে আমি আনন্দিত। আমি এ মেলা ও লোকজ উৎসব আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
শিল্প-সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয় বহন করে, চেতনাকে ঋদ্ধ করে। ১৯৪৮-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতীয়াবাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন শিল্পীগণ। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালে ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন’ লোক ও কারুশিল্পের গবেষণা, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও পুনরুজ্জীবনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকার বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং দেশীয় সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সোনারগাঁও জাদুঘরকে বিশ্বমানের জাদুঘরে রূপান্তরিত করার কাজ এগিয়ে চলেছে। ফাউন্ডেশনের পুষ্প উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণদানের আদলে নির্মিত সুউচ্চ ভাস্কর্য বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের প্রতীক। এখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শহিদ শেখ রাসেলের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি পুনঃসংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যা দর্শকনন্দিত এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক। ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী ‘লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব’ দেশীয় সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমি আশা করি, এ মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী, লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলাধুলা, পুতুলনাচ, গ্রামের অবহেলিত ও প্রথিতযশা শিল্পীদের সমন্বয়ে লোকসংগীতের আসর, জারি-সারি, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, মারফতি, কবিগান ও পালাগান আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে, যা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সকলকে অনুপ্রাণিত করবে।
আমি ‘লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব ২০২৩’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।