২০২৩ সালের মাঝামাঝি শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে

প্রকাশিত : নভেম্বর ৯, ২০২২ , ৮:০২ অপরাহ্ণ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, সংগৃহীত চিত্র।

জেনেভা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংশোধিত এ শ্রম আইন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন দু’টির মধ্যে কোনটি নতুন প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রয়োগ হবে তা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ঘোষণা করেন, সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইনই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রয়োগ হবে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর গভর্নিং বডির ৩৪৬তম অধিবেশনে অংশ নিয়ে বুধবার বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইনমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রগুলো কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে রাজনৈতিক সংকটের কারণে এটি আরো প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়৷ এমতাবস্থায় বাংলাদেশ আইএলও কনস্টিটিউশনের ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে৷ গত মার্চ মাসে আইএলও’র গভর্নিং বডির সভায় প্রতিবেদন দাখিল করার পর প্রায় সাত মাসে বাংলাদেশ সরকার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে লক্ষণীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন করেছে এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আইএলও বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যবেক্ষণকে যথাযথ বিবেচনা করা হয়েছে। আইএলও-কে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী আরো বলেন, আইনি সংস্কারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ১৭টি স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে সংশোধনী প্রস্তাব পাওয়া গেছে৷ ত্রিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গুরুত্বসহকারে এ সংশোধনী প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ করছে। তিনি জানান, ত্রিপক্ষীয় শ্রম আইন পর্যালোচনা কমিটি সংকলিত সুপারিশ ও প্রস্তাবগুলোর ওপর আরো পর্যালোচনা করবে এবং জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কাউন্সিলের অনুমোদন চাইবে। এসময় ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকে পুরোপুরি ডিজিটাইজড করা হয়েছে। শ্রম অধিদপ্তর তার চারটি শিল্প সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট এবং ৩২টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সহায়তায় শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শ্রম পরিদর্শন এবং প্রয়োগকে শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রম খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতে দেশি-বিদেশি সামাজিক অংশীদার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া, গভর্নিং বডির ৩৪৪তম অধিবেশনে আইএলও’র মহাপরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর করার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বাংলাদেশ সরকার ‘জবরদস্তি শ্রম সম্পর্কিত আইএলও কনভেনশন, ১৯৩০’ এর প্রটোকল ২৯ অনুসমর্থন করেছে। স্পষ্টতই, এগুলো আইএলও শ্রম মানদণ্ডের প্রতি আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রদর্শন। প্রতিনিধিদলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ এহছানে এলাহী, সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোঃ সুফিউর রহমান এবং অতিরিক্ত শ্রম সচিব জেবুন্নেছা করিম অংশ নিয়েছেন।