নারী শান্তিরক্ষীরা নাগরিকদের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে

প্রকাশিত : নভেম্বর ২৯, ২০২২ , ১১:৪২ অপরাহ্ণ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, সংগৃহীত চিত্র।

লন্ডন, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারও সাথে বৈরিতা নয়’ বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা এবং নারী শান্তিরক্ষীরা ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সেনাপ্রদানকারী দেশ। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ২ হাজার ৩৯৭ জন নারী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে ৫৭৯ জন নারী বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত আছে। এর বাইরেও দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের চারজন নারী বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সোমবার লন্ডনে কুইন এলিজাবেথ সেন্টারে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ‘প্রিভেন্টিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট ইনিশিয়েটিভ কনফারেন্স (পিএসভিআই) ২০২২’ এ বেস্ট প্র্যাকটিস ইন ডিফেন্স অন প্রিভেন্টিং এন্ড রেসপন্ডিং টু কনফ্লিক্ট রিলেটেড সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স সেশনে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়ে শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিকট থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সংঘাতপূর্ণ ও অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণ করে নারীর ক্ষমতায়ন এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে আইভরিকোস্টে জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে নারী সামরিক কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মোতায়েন করে। নারী শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতি স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন জেন্ডার ভায়োলেন্স রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, নারীর সুরক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনাসহ আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে বিপুল সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ জেন্ডার বৈষম্য ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। শান্তি রক্ষা মিশনের উচ্চপদে নারীদের পদায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমান সুযোগ এবং সংঘাতময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ বাস্তবায়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পরিবার, কমিউনিটি এবং সমাজে সকল পরিস্থিতিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাজ্যের আর্মড ফোর্সেস মন্ত্রী James Heappey – এর সভাপতিত্বে এ সেশনে আলোচক ছিলেন ন্যাটোর মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি Irene Fellin যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেজর Charmaine Geldenhuys, জেনেভা সেন্টার ফর সিকিউরিটি সেক্টর গভর্নেন্সের Dr. Mrgan Bastick এবং বিপিএসটি’র জেন্ডার এ্যাডভাইজার Dr. Sellah King oro. এসময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল। এ কনফারেন্সে বিশ্বের সত্তরটির বেশি দেশের প্রতিনিধি, শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিনিধি ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছে।