বেতন ও চাকরীর নিশ্চয়তা চেয়ে মানববন্ধন

প্রকাশিত : জুন ১৯, ২০২২ , ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: আমেনা বেগম(ছদ্মনাম), স্বামী পরিত্যক্ত। বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানতপুর গ্রামে । বিয়ের মাত্র ৪ বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী তালাক দিয়ে চলে যায় অন্যত্র। ২ বছরের কন্যা শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েন আমেনা। বাবারও আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় সপ্তাহ খানেক ঘুরতেই বাবার ঘরে বাড়তে থাকে অভাব অনটন। আর কমতে থাকে আদর-আপ্যায়ন। আমেনা সিদ্ধান্ত নেয় নিজের পাড়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু লেখা পড়া বেশি না থাকায় তাও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে এলাকার এক বড় বোনের সহযোগিতায় সামান্য বেতনে তিনি শ্রমিকের চাকুরী নেন মাইজদীর বিনিময় বিতান নামের একটি বাইন্ডিং কারখানায়। সন্তানকে মা বাবার কাছে বাড়িতে রেখে প্রতিদিন নিজে চাকরীতে যান। এভাবে নিজের আয়ে কোন মতে চলছিলো তার সংসার। এরই মধ্যে গত ১২ জুন মালিক পক্ষ বকেয়া বেতন না দিয়েই এবং কোন প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ চাকরী হারিয়ে মাথার উপর যেন বাজ পড়ে আমেনার। এই চাকরী চলে গেলে তার সংবাদ কি ভাবে চলবে তা ভেবেই দিশেহারা তিনি। শুধু আমেনা‘ই নয়, প্রায় একই চিত্র ওই কারখানায় চাকরী করা একাধিক নারী শ্রমিকের। তাই বাধ্য হয়ে চাকরীর নিশ্চয়তা ও বকেয়া বেতনের দাবীতে রাস্তায় নামে তারা। গত ১৬ জুন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে তারা। এ সময় একাধিক নারী শ্রমিক জানান, কারাখানাটিতে আমরা অনেকে ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত শ্রমিক হিসেবে চাকুরী করে আসছি। হঠাৎ করে মালিক সুনীল সাহা কৌশলে প্রতিষ্ঠানটি তার ভাই প্রনীল সাহার নিকট হস্তান্তর করেন। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে নোটিশ না দিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই শ্রমিকদের ছাটাই করার হুমকি দেয় এবং কারখানা বন্ধ করে দেয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায্য অধিকার দাবি করছি। তবে এ বিষয়ে বিনিময় বিতান বাইন্ডিং এর মালিক প্রনীল সাহা জানান, এই প্রতিষ্ঠানটি আমার বড় ভাই সুনীল সাহা চালাত। করোনা কালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে। আরো কিছু সমস্যার কারণে একমাসের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা হবে, যারা এখন শ্রমিক আছেন তারাই আগামীকে কাজ করবেন এবং তাদের পাওনাও পরিশোধের চেষ্টা করছি আমরা।