চাঁপাইনবাবগঞ্জ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৯, ২০২২ , ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ মেট্রিক টনের অধিক চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের ডিলার মো. সরফরাজের বিরুদ্ধে ১৭১টি কার্ডের চাল তুলে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১৭১টি কার্ডের মধ্যে একবার থেকে সর্বোচ্চ ০৯ বার পর্যন্ত চাল পায়নি সুবিধাভোগীরা। জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে প্রত্যেক ইউনিয়নে দুই জন করে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে ঝিলিম ইউনিয়নের একজন ডিলার মো. আব্দুল হামিদের ডিলারশীপ স্থগিত করা হয় ২০২০ সালের আগস্ট মাসে। পরে আব্দুল হামিদের অধীনে থাকা ৭৩৬টি কার্ডসহ পুরো ইউনিয়নের চাল বিক্রির দায়িত্ব দেয়া হয় আরেক ডিলার মো. সরফরাজকে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হলে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে পুনরায় ডিলারশীপ ফিরে পান আব্দুল হামিদ। সরফরাজ আলীর বিরুদ্ধে প্রায় ১ বছর আট মাসে সুবিধাভোগীদের ৬ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল হামিদ। সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল হামিদ। অভিযোগ ও সুবিধাভোগী সূত্রে জানা যায়, মামলা জটিলতায় ১ বছর ৮ মাস আব্দুল হামিদের অধীনে থাকা ৭৩৬টি কার্ডে চাল বিক্রি করেন মো. সরফরাজ। কিন্তু এই সময়ে ১৭১টি কার্ডের সুবিধাভোগীরা আব্দুল হামিদকে জানান, তারা এই সময়ে একেকজন একাধিকবার চাল পাননি। অথচ নথিপত্রে চাল বিক্রি করা হয়েছে বলে উলে­খ করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা চালের বাজারমূল্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা। ঝিলিম ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুল হামিদ বলেন, আমার মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় দেড় বছরের অধিক সময় ডিলারশীপ স্থগিত ছিল। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে তা ফিরে পায়। এসময় অনেক সুবিধাভোগী আমার কাছে এসে একাধিকবার চাল না পাওয়ার অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখি। এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এনিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা তদন্ত না করে পুনরায় চাল বিক্রির জন্য চাল প্রদান করা হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এবিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানায়। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগী তরিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ বছর ধরে আমি এই চাল পায়। এখন পর্যন্ত কোনদিন কোন ঝামেলা হয়নি। কোন মাসে চাল পায়নি এমনটা হয়নি। অথচ নতুন ডিলার মো. সরফরাজের সময়ে তিনবার চাল পায়নি। পরে আরেক ডিলার আব্দুল হামিদকে চাল না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তোমাদের কার্ডে চাল কেনা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৫ টাকা কেজি দরের চালের এক সুবিধাভোগী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সমাজের অসহায় দরিদ্র খেটে-খাওয়া দিনমজুর শ্রেণীর মানুষদের মাঝে এই চাল বিক্রি করা হয়। অথচ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত একটি কর্মসূচিকে কলঙ্কিত করে আমাদের মতো খেয়ে খাওয়া মানুষকে বঞ্চিত করেছেন সরফরাজ। ৪ বার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। আব্দুর রহিম নামের এক সুবিধাভোগী জানান, আমার মতো আরও কয়েকজন প্রতিবেশী চাল পায়নি। নিতে গেলে ঘুরিয়ে পাঠিয়েছে। অথচ নথিপত্রে দেখানো হয়েছে, চাল বিক্রি করা হয়েছে। আমরা এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা চাই। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঝিলিম ইউনিয়নের ডিলার মো. সরফরাজ। তিনি বলেন, আমার সাথে যাদের ষড়যন্ত্র রয়েছে, তারাই এসব মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে হয়রানী করছে। সকল সুবিধাভোগীর মাঝে সুষ্ঠুভাবে চাল বিক্রি করা হয়েছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ করার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।